


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মোথাবাড়ি কাণ্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে এনআইএ পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানায়। আবেদনের পরই পুলিশ হেফাজত শেষ হওয়ার আগেই তাকে আগেভাগে আদালতে তুলল মালদহ জেলা পুলিশ। বুধবার তাকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে দেয় আদালত। আজ বৃহস্পতিবার তাকে হেফাজতে পেতে আদালতে আবেদন করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এসআইআরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে সুজাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১ এপ্রিল। অভিযোগ,সুজাপুরের ওই ঘটনার সময় গাড়ির উপর উঠে উসকানিমূলক বক্তৃতা দেয় আইনজীবী মোফাক্কেরুল। একই দিনে মোথাবাড়িতে কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে সাত বিচারককে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। মধ্যরাতে পুলিশ যখন তাঁদের উদ্ধার নিয়ে আসে, সেই সময় বিচারকদের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ৩ এপ্রিল সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হয় মোফাক্কেরুল ও গাড়ির চালক। পরদিন ৪ এপ্রিল তাদের মালদহ সিজেএম কোর্টে পুলিশ পেশ করে। তদন্তকারী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক মোফাক্কেরুলকে ১৪ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এদিকে মোথাবাড়ি কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআইএ তিনদিন ধরে ঘটনার তদন্ত করে। সোমবার তারা সুপ্রিম কোর্টে সেই রিপোর্ট পেশ করেছে। এখন মোথাবাড়ি কাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এনআইএ। এরপরই তাকে হেফাজতে নিতে উদ্যেগী হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। জেলা পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে জানায় মোথাবাড়ির ঘটনায় এই আইনজীবীকে তারা হেফাজতে নেবে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দরকার। উস্কানি তিনি কার নির্দেশে দিয়েছিলেন এবং পরিকল্পনা কার ছিল তাঁর কাছ থেকে জানতে চান এজেন্সির অফিসাররা। এরপরই পুলিশ ১৪ দিনের পুলিশি হেপাজত থাকা মফেক্কারুলকে বুধবার পাঁচদিনের মাথাতেই আদালতে হাজির করে। সরকারি আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল বলেন, মোথাবাড়ি কাণ্ডে তদন্তভার হস্তান্তরের জন্য এনআইএ জেলা পুলিশের কাছে আবেদন করেছে। সেই কারণে এদিন মোফাক্কেরুল ইসলাম সহ অন্যদের আদালতে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। এখন অভিযুক্তরা বিচারবিভাগীয় হেপাজতে রয়েছে।