Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড, রঘুনাথপুর শহরে ঢোকার মুখেই আবর্জনার স্তূপ, ক্ষোভ

নেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড, রঘুনাথপুর শহরে ঢোকার মুখেই আবর্জনার স্তূপ, ক্ষোভ
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর শহরে ঢোকার মুখেই রাজ্য সড়কের পাশে অবাধে নোংরা, আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে শহরে ঢুকতেই মানুষ নাকে, মুখে রুমাল, হাত চাপা দিচ্ছে। গ্রিন সিটি হিসেবে রঘুনাথপুর পুরসভাকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অথচ ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অভাবে যত্রতত্র নোংরা, আবর্জনা ফেলায় পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটাই এখন প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাকা থাকলেও ডাম্পিং গ্রাউন্ড না হওয়ায় বিরোধীরা পুরসভা কর্তৃপক্ষকে ‘নিষ্কর্মা’ বলে কটাক্ষ করেছে।
Advertisement
রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, শহরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার জন্য অসুবিধা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঝামেলার জন্য কাজ করা সম্ভব হয়নি।
শহরের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রঘুনাথপুর শহরে ১৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিদিন ওয়ার্ডগুলিতে সাফাই কর্মীরা কাজ করেন। শহরের আবর্জনা রঘুনাথপুর-বাঁকুড়া এবং রঘুনাথপুর-আদ্রা রাজ্য সড়কের দুই পাশে ফেলা হয়। এছাড়া এটিএম গ্রাউন্ডের কাছেও ফেলা হয়। শহরে ঢোকার মুখে সারিবদ্ধভাবে নোংরা, আবর্জনার স্তূপ হয়ে রয়েছে। সেই আবর্জনাগুলি থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ ছড়ায়। যার ফলে ওই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরে আসা মানুষ দুর্গন্ধে মুখ ঢাকেন। শুধু তাই নয়, সেই সব নোংরা, আবর্জনা সরাসরি রাজ্য সড়কের উপর এসে পড়ছে। দুর্গন্ধের জেরে এলাকায় মশা, মাছির উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ।
পুরসভার একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক্টর আবর্জনা ওয়ার্ডগুলি থেকে বের হয়। সেই আবর্জনা কোথায় ফেলা হবে তাই নিয়ে রীতিমতো পুরসভা চিন্তায় থাকে। তাই বর্তমানে বসতিহীন দুই রাজ্য সড়কের পাশে আবর্জনাগুলি ফেলা হচ্ছে। সেই আবর্জনাগুলি অনেক সময় বড়, বড় গাড়িতে ভর্তি করে অন্যত্র জমি ভরাট সহ অন্যান্য কাজে সরবরাহ করা হয়। ফলে আবর্জনা ফেলার জায়গাগুলি ফাঁকা হয়।
রঘুনাথপুর পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা বলেন, পুরসভা রঘুনাথপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে থাকা পুকুর নোংরা, আবর্জনা ফেলছে। ফলে আবর্জনা ফেলার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দিনে ওই পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে জমি মাফিয়ারা চড়া দামে জায়গাটি বিক্রি করতে পারবে বলে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহরের যত্রতত্র নোংরা, আবর্জনা ফেলায় মানুষ অতিষ্ঠ।
রঘুনাথপুর শহরের কংগ্রেস সভাপতি তারকনাথ পরামাণিক বলেন, অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। টাকা থাকলেও পুরসভা কর্তৃপক্ষ শহরে একটি নোংরা, আবর্জনা ফেলার জন্য ডাম্পিং গ্রাউন্ড করতে পারছে না। এটা পুরসভার ব্যর্থতা। যেখানে পুরসভা শহরকে সাজানোর পরিকল্পনার নিয়েছে, সেখানে শহরে ঢোকার মুখে মানুষকে নোংরা, আবর্জনা ডিঙিয়ে আসতে হচ্ছে।
চেয়ারম্যান বলেন, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য পুরসভার জায়গা দেখা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ