মিষ্টির সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক বহুদিনের। তাই এই সুস্বাদু জিনিসটি নিয়ে গবেষণারও অন্ত নেই। ইতিহাস হাতড়ালে বোঝা যায়, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, সমকালীন সমাজ-রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নানা ধরনের মিষ্টি তৈরির গল্প। সময় এগিয়েছে। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিষ্টি মহল্লায় ভিড় জমিয়েছে নিত্যনতুন সৃষ্টি। এভাবেই একসময় জন্ম নেয় নেহরু মিষ্টি। কেউ কেউ অবশ্য একে নেহরু সন্দেশও বলে থাকেন। নামটা শুনলেই প্রথমে মাথায় আসে জওহরলাল নেহরুর কথা। যদিও এর নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা মতিলাল নেহরু।
Advertisement
১৯২৮ সাল। সেবার জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন মতিলাল নেহরু। আর তাঁকে স্বাগত জানাতে বউবাজারের নবকৃষ্ণ গুইনের মিষ্টির দোকানে তৈরি করা হয়েছিল নেহরু মিষ্টি। দোকানের বর্তমান মালিক সুপ্রভাত বাবুর ঠাকুরদা ছিলেন এই বিশেষ মিষ্টির কারিগর। মতিলাল কলকাতায় পৌঁছলে তাঁর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছিল সেই মিষ্টি। নানা রঙের মিষ্টির ভিড়ে এটি দেখতে একটু অন্যরকম। হালকা সবুজ। তবে তার জন্য মিষ্টিতে কোনও রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হয়নি। ছানা দিয়ে তৈরির পর তাতে মেশানো হয় পেস্তা বাটা। উপরে ছড়ানো এলাচের গুঁড়ো। খুব চড়া নয় বরং অপেক্ষাকৃত কম মিষ্টি স্বাদই এর বিশেষত্ব। পেস্তা দিয়ে বানানোর জেরে প্রথম প্রথম স্থানীয়রা এটিকে ‘পেস্তা বল’ নামে ডাকতে শুরু করেন। পরে অবশ্য নেহরু মিষ্টি নামেই তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
শুধু নেহরু মিষ্টি নয়। কলকাতা ও বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এইরকম নানা ঘটনা। উনিশের শতকে লর্ড ক্যানিংয়ের স্ত্রীকে সম্মান জানাতে ‘লেডিকেনি’র জন্ম। যদিও শুরুতে নাম ছিল লেডি ক্যানিং। এভাবেই লর্ড রিপনকে সম্মান জানাতে রিপন সন্দেশ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামে আশুভোগ এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের নামেও মিষ্টি তৈরি হয়।
শুধু নেহরু মিষ্টি নয়। কলকাতা ও বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এইরকম নানা ঘটনা। উনিশের শতকে লর্ড ক্যানিংয়ের স্ত্রীকে সম্মান জানাতে ‘লেডিকেনি’র জন্ম। যদিও শুরুতে নাম ছিল লেডি ক্যানিং। এভাবেই লর্ড রিপনকে সম্মান জানাতে রিপন সন্দেশ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামে আশুভোগ এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের নামেও মিষ্টি তৈরি হয়।



