Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নগদ ও ইউপিআইয়ের মাধ্যমে নেওয়া হতো শিশু বিক্রির টাকা, তদন্তে মিলল তথ্য

নগদ ও ইউপিআইয়ের মাধ্যমে নেওয়া হতো শিশু বিক্রির টাকা, তদন্তে মিলল তথ্য
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিশু ‘দত্তক’ নেওয়ার পর নিঃসন্তান দম্পতিদের টাকা মেটাতে হতো নগদে। কেউ কাঁচা টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁদের জন্য ইউপিআই পেমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শিশু পাচারকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মানিক হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই তথ্য  তদন্তকারীরা জেনেছেন বলে খবর। একইসঙ্গে তার নামে-বেনামে ও ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়ার তথ্যও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। এগুলি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। পাশাপাশি এই রাজ্য সহ বিহারে যে সমস্ত অনুমোদনহীন নার্সিংহোমের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগ মিলেছে, সেখান থেকে কত শিশু মানিক পেয়েছে, তার হিসেব চলছে।
Advertisement
সিআইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিঃসন্তান দম্পতিদের নাড়িনক্ষত্র জানার কাজ শেষ হলে দরদাম চূড়ান্ত হতো। বাচ্চা দেওয়ার জন্য কমপক্ষে এক থেকে দেড় মাস সময় নিত তারা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আরও বেশিদিন অপেক্ষা করতে হতো নিঃসন্তান দম্পতিদের। তদন্তে উঠে এসেছে টাকাপয়সা ঠিক হওয়ার পর ধাপে ধাপে পেমেন্ট নিত তারা। প্রথম পর্যায়ে কুড়ি থেকে তিরিশ শতাংশ অগ্রিম নেওয়া হতো। সেটাকে বুকিং মানি হিসেবে ধরত অভিযুক্তরা। কে কত টাকা দিল, তার হিসেব রাখার জন্য একটি ডায়েরি ছিল। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ে টাকা নেওয়া হতো। শিশু হাতবদলের সময় পুরো পেমেন্ট নিয়ে নিত পাচার চক্রের পান্ডা মানিক। নগদে পেমেন্টের উপরই জোর দিত অভিযুক্ত। তবে অনেক সময় কেউ রাজি না হলে অন্য কারও ইউপিআই বা অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে সেখানে টাকা জমা করতে বলত সে। লেনদেনের সূত্র ধরে যাতে নিঃসন্তান দম্পতিদের খোঁজ না মেলে, সেই কারণেই এই কৌশল নিয়েছিল তারা।  যে ডায়েরিতে টাকার অঙ্ক লেখা থাকত, তার সূত্র ধরে দম্পতিদের সন্ধান করা হচ্ছে, যাঁরা বেআইনিভাবে মানিকের কাছ থেকে শিশু কিনেছেন। প্রয়োজনে তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে কথা বলবেন তদন্তকারীরা।
ধাপে ধাপে টাকা নেওয়ার কারণ হিসেবে তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত মানিক জানিয়েছে, শিশু নেওয়ার জন্য তাদের অনুমোদনহীন নার্সিংহোম  বা বেসরকারি হোমে অগ্রিম টাকা দিতে হতো, যাতে সেখানে কোনও  বাচ্চা জন্মালেই তার হাতে প্রথমে আসে। অনুমোদনহীন নার্সিংহোমগুলিতে  অন্তঃসত্ত্বারা দেখাতে আসতেন, সেখান থেকে মানিক জেনে নিত কার কবে প্রসবের তারিখ রয়েছে। সেইমতো নিঃসন্তান দম্পতিদের বলা হতো, কবে নাগাদ সন্তান দেওয়া হবে। এছাড়া আর্থিক কারণে যে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সন্তান বিক্রি করতে রাজি হতেন, তাঁদের চিকিৎসা সহ বিভিন্ন খরচখরচা দিতে হতো অভিযুক্তকে। যে কারণে প্রথমেই ভালো টাকা অগ্রিম নিত অভিযুক্তরা।
তদন্তে উঠে আসছে শিশু পাচারের টাকায় কেনা নামে-বেনামে সম্পত্তি রয়েছে অভিযুক্তের। মানিক নিজের নামে ছাড়াও পরিবার সহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নথি নিয়ে তাঁদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। সেখানে বেআইনিভাবে আসা টাকা গচ্ছিত রাখত বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বিভিন্ন জনের অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে সেখানে টাকা জমা রাখা হতো বলে জানা যাচ্ছে। এই নিয়ে বিশদে খোঁজখবর শুরু হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ