Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

নিয়োগ থেকে বেতন, পুরুষতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কর্মক্ষেত্রে প্রথম সারিতেই নারীব্রিগেড

নিয়োগ থেকে বেতন, পুরুষতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে কর্মক্ষেত্রে প্রথম সারিতেই নারীব্রিগেড
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বহু বছর আগে কবি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার/কেন নাহি দেবে অধিকার?’ তারপর কালের নিয়মে সমাজ-সভ্যতায় বিস্তর পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। একসময় নারী ঘরের বাইর হলেই চোখ টাটাত যে সমাজের, সেই সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন পুরুষের, বলা ভালো পুরুষতন্ত্রের চোখে চোখ রেখে অধিকার বুঝে নিচ্ছে নারীব্রিগেড। এ যে শুধু কথার কথা নয়, নিখাদ তথ্য ও পরিসংখ্যান—তারই প্রমাণ মিলল বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরি সংক্রান্ত একটি নামজাদা পরামর্শদাতা সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। 
Advertisement
২০২৪ সালে বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরির বাজার কেমন গেল? বছর শেষে এর উত্তর পেতে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল ‘আপনা ডট ইন’। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের তুলনায় দেশে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ। চাকরির জন্য আবেদনে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন মহিলারা। শুধু তাই নয়, নিয়োগের হারে এবং বেতন প্রাপ্তির নিরিখে বিগত কয়েক বছরে অনেকটা এগিয়েছেন তাঁরা। আর সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের উজ্জ্বল উপস্থিতি। 
প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরে চাকরির জন্য আবেদন জমা পড়েছে সাত কোটি, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে মহিলা আবেদনকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৮০ লক্ষ। গতবারের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে মহিলা আবেদনকারীর সংখ্যা। যে মহিলারা আগেই চাকরিতে যোগদান করেছেন, তাঁদের বেতন গত বছরের তুলনায় সার্বিকভাবে ২৮ শতাংশ বেড়েছে। বেসরকারি জায়গায় কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে মহিলারা কতটা সাফল্য পেয়েছেন? শ্রমমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে প্রতি ১০০ জন কর্মীর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ছিল ২২। গত অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা ৪০-এ পৌঁছয়। দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষিত মহিলা কর্মীর সংখ্যাও অনেকটা বেড়েছে। মহিলা কর্মীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর বা তারও বেশি শিক্ষিতের হার বর্তমানে ৪০ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ছিল ৩৫ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ মহিলা কর্মীর সংখ্যা সেই সময় ছিল প্রতি ১০০-য় ১১ জন। এখন তা ২৪ জনে পৌঁছে গিয়েছে।  
এ তো গেল দেশের হিসেব। কাজের বাজারে মহিলাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা কী? তথ্য বলছে, বাংলায় মহিলা কর্মীর সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে। ২০২২ সালে রাজ্যের বেসরকারি ক্ষেত্রে ১০০ জন কর্মীর মধ্যে ২৭ জন ছিলেন মহিলা। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩-এ। চলতি বছরে তা আরও বেড়ে হয়েছে ৩৯। তাছাড়া, এরাজ্যে মহিলাদের বেকারত্বের হার মাত্র ৩ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যে সেই হার ৩৪ শতাংশ পর্যন্তও উঠেছে। মহিলাদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান এত উজ্জ্বল কীভাবে? বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায়ের মতে, ‘প্রথমত, এখানকার মহিলাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। দ্বিতীয়ত, কাজের জায়গায় বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তাঁদের উৎসাহিত করছে। তৃতীয়ত, বিগত কয়েক বছরে নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের একাধিক উদ্যোগ তাঁদের আরও কর্মমুখী করেছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ