নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে নারকীয় হত্যালীলা। ধারালো কুড়ুল দিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে এলোপাথাড়ি কোপ। মাথা ও গলায় মারাত্মক আঘাতের জেরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান বাবা ও ছেলে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মা। তাঁকেও কোপানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে নিউটাউনের পাথরঘাটা ছাপনা এলাকার এই নৃশংস ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। প্রধান অভিযুক্ত দু’জনকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে টেকনোসিটি থানার পুলিশ। এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত, তার খোঁজ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম মোজাফ্ফর ওরফে মনা মিস্ত্রি (৫৫) এবং তাঁর ছেলে বাপি মিস্ত্রি (২৬)। সংকটজনক অবস্থা চিকিৎসাধীন মোজাফ্ফরের স্ত্রী হাসনুয়ারা বিবি। এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকার মানুষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাথরঘাটার ছাপনায় বাগজোলা খালপাড় সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারেই জমি রয়েছে মোজাফ্ফর ও তাঁর ভাইদের। তাঁদেরই এক বোন কিছুটা জমি মোজাফ্ফরকে দান করেছিলেন। ফলে, অন্য ভাইদের তুলনায় তাঁর জমির পরিমাণ কিছুটা বেশি। কেন বোনের জমি তিনি একা পাবেন, তা নিয়ে গত সাত-আট বছর ধরে মোজাফ্ফরের ভাই মাতব্বর মিস্ত্রি গণ্ডগোল পাকাচ্ছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার পুলিশের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে তাদের। এমনকি, পাড়ার নেতারাও বসেছেন। কিন্তু, সমস্যা মেটেনি। মোজাফ্ফরের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিল মাতব্বর। ওই জমিতে মোজাফ্ফর একটি একতলা বাড়ি তৈরি করছিলেন।
জানা গিয়েছে, এদিন ঢালাইয়ের জন্য রড বাঁধা ও সেন্টারিংয়ের কাজ চলছিল। অভিযোগ, বিকাল ৩টে নাগাদ মাতব্বরের দুই ছেলে মিন্টু মিস্ত্রি ও চন্টু মিস্ত্রি কুড়ুল নিয়ে আচমকা বেরিয়ে আসে। তারা প্রথমেই মোজাফ্ফর এবং তাঁর ছেলে বাপির মাথায় কুড়ুল দিয়ে কোপ মারে। তারপর মাথা, গলা ও বুকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। সেই সময় রাজমিস্ত্রিরা কাজ করছিলেন। মিন্টু ও চন্টুর হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় তাঁরা কেউ সামনে আসতে সাহস পাননি। উলটে রাজমিস্ত্রিরা দৌড়ে পালিয়ে যান। মোজাফ্ফরের স্ত্রী স্বামী-সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও কোপানো হয়। তাঁদের আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। প্রতিবেশীদের সামনেই চলে হত্যালীলা।
খবর পাওয়ামাত্র টেকনোসিটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযুক্ত মিন্টু ও চন্টুকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মোজাফ্ফর এবং তাঁর ছেলে বাপিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর স্ত্রী চিকিৎসাধীন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মাতব্বরও ছিল। তবে, খুনের পর সে গা ঢাকা দিয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নিউটাউন) জ্যোতির্ময় রায় এই ঘটনার তদন্ত করছেন। তিনি জানিয়েছেন, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।