জয়পুর: দুর্গম গ্রামীণ অঞ্চল। ফলে সংবাদপত্র খুব একটা পাওয়া যায় না। এহেন পরিস্থিতিতে নিজস্ব সংবাদপত্র চালু করল রাজস্থানের টঙ্কের একটি সরকারি স্কুল। সেখানে দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাই সাংবাদিক।
জয়পুর: দুর্গম গ্রামীণ অঞ্চল। ফলে সংবাদপত্র খুব একটা পাওয়া যায় না। এহেন পরিস্থিতিতে নিজস্ব সংবাদপত্র চালু করল রাজস্থানের টঙ্কের একটি সরকারি স্কুল। সেখানে দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাই সাংবাদিক।
মোট দু’টি ভাষায় সংবাদপত্র প্রকাশ করে রাহোলির পিএম শ্রী গভর্নমেন্ট সিনিয়র সেকেন্ডরি স্কুল। হিন্দ সংবাদপত্রের নাম ‘রাহোলি শিক্ষা সমাচার’। অন্যদিকে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় ‘রাহোলি এডুকেশন টাইমস’ নামে। মুদ্রিত সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইনেও সংবাদপত্র প্রকাশ করা হয়। স্কুলের প্রিন্সিপাল ডঃ যোগেন্দ্র সিং নারুকা জানান, স্কুলের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে খবর করা হয়। ছবি তোলা, খবর লেখা থেকে শুরু করে সম্পাদনা। সবকিছুর দায়িত্বে থাকে পড়ুয়ারা। ওরাই সাক্ষাৎকার নেয়। পাতার ছকও পড়ুয়ারাই তৈরি করে। গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এই অভিনব উদ্যোগের বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ এডিটোরিয়াল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেখানে রয়েছেন প্রিন্সিপাল, শিক্ষিকা ও নির্বাচিত পড়ুয়ারা। সংবাদপত্র প্রকাশ করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের সাংবাদিকতার খুঁটিনাটি বোঝানোর দায়িত্বে রয়েছে এই বোর্ড। নারুকা নিজে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রিন্সিপাল হওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন, বহু পড়ুয়ারা বাড়িতে সংবাদপত্র পৌঁছায় না। বিষয়টি তাঁকে রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে। ২০২২ শিক্ষাবর্ষে তিন বছরের পরিকল্পনা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এক বছর পরেই ‘রাহোলি শিক্ষা সামাচার’এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পুরোটাই করা হয় স্কুলের তহবিলের টাকায়। এবিষয়ে নারুকা বলেন, ‘স্কুল সংক্রান্ত খবর কোনো সংবাদপত্রে এলেই পড়ুয়ারা সেটা বারবার পড়তে থাকত। সহপাঠীদের সঙ্গে সেই খবর নিয়ে আলোচনা করত। এই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজেদের সংবাদপত্র শুরু করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে পড়ুয়াদের পথ দেখান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁরাই সংবাদপত্র প্রকাশ করার জন্য আর্থিকভাবে সাহায্য করেন। মুদ্রিত সংস্করণ প্রতিমাসে বা প্রতি তিনমাসে ছাপা হয়। সম্পূর্ণ নিখরচায় পড়ুয়াদের কাগজ পৌঁছে দেওয়া হয়।’