Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেবকুণ্ডে বিয়ের মালা, ফুল ভাসিয়ে সুখ-শান্তি প্রার্থনায় নবদম্পতিরা

পরম্পরা মেনে পরিবারের মঙ্গল কামনায় মনসামঙ্গল ও বেহুলার স্মৃতি বিজড়িত দেবকুণ্ডে বিয়ের ফুল, মালা ভাসালেন নবদম্পতিরা। বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন সকাল থেকে পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন দেবকুণ্ডে (পুকুরে) বিয়ের ফুল সহ যাবতীয় সামগ্রী ভাসিয়ে গন্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলেন তাঁরা।

দেবকুণ্ডে বিয়ের মালা, ফুল ভাসিয়ে সুখ-শান্তি প্রার্থনায় নবদম্পতিরা
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৯:০৫
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: পরম্পরা মেনে পরিবারের মঙ্গল কামনায় মনসামঙ্গল ও বেহুলার স্মৃতি বিজড়িত দেবকুণ্ডে বিয়ের ফুল, মালা ভাসালেন নবদম্পতিরা। বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন সকাল থেকে পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন দেবকুণ্ডে (পুকুরে) বিয়ের ফুল সহ যাবতীয় সামগ্রী ভাসিয়ে গন্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলেন তাঁরা। এদিন নবদম্পতিরা ফের বর-কনে সেজে মালা বদল করে বিয়ের টোপর, মালা পুকুরের জলে ভাসালেন। দাম্পত্য জীবনে সুখ শান্তির কামনায় যুগ যুগ ধরে দেবকুণ্ডে স্নান সেরে পুজো দেন নবদম্পতিরা। বিশেষ করে মালদহের রাজবংশী সম্প্রদায় এই রীতি পালন করে আসছে। 

Advertisement

শুক্রবার রীতিমতো ব্যান্ডপার্টি বাজিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেবকুণ্ডে আসেন কৌশিক বর্মন ও জনতা বর্মন। কয়েক মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। সযত্নে রাখা বিয়ের টোপর, মালা, ফুল এদিন তাঁরা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। তার আগে পুকুর পাড়ে এদিন তাঁরা বর-কনে সেজে মালা বদল করেন। পরে গন্ধেশ্বরী মন্দিরে দেবীর কাছে প্রণাম করে দাম্পত্য জীবনে সুখ শান্তি প্রার্থনা করেন।
শুধু কৌশিক, জনতাই নন, একশো বছরের বেশি সময় ধরে এই রীতি পালন করে আসছেন নব দম্পতিরা। মালদহ জেলার পাশাপাশি প্রতিবেশী জেলা এবং ভিনরাজ্য থেকে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ এদিন ভিড় জমান এই কুণ্ডে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, এই রীতি দেড়শো বছরের পুরনো। তবে মন্দিরের সেবায়েত অম্বর কুমার খাঁ বলছেন, আমাদের কাছে যা নথি রয়েছে, তা থেকে বোঝা যায় এই পুজো আট দশক ধরে হয়ে আসছে।
স্থানীয়রা বলছেন,এই পুজোর সঙ্গে মনসামঙ্গল কাব্যের যোগসূত্র রয়েছে। কথিত রয়েছে, পুরাতন মালদহ দিয়ে বেহুলা নদী বয়ে গিয়েছে। স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে মনসামঙ্গলের বেহুলা এই নদী দিয়ে যান। নদীর পাশেই ছিল দেবকুণ্ড। সেসময় নদী এবং কুণ্ডর সংযোগ ছিল। সেখানে এক ধোপার কাছে বেহুলা আশীর্বাদ পান। বর্তমানে বেহুলা নদীর অস্তিত্ব নেই। শুকিয়ে ছোট হয়ে গিয়েছে। কুণ্ড অনেক দূরে সরে গিয়েছে। তবুও রীতি মেনে বুদ্ধ পূর্ণিমায় নবদম্পতিরা স্নান সেরে আশীর্বাদ নেন। এই উপলক্ষ্যে মেলাও বসে। গাজোলের কৌশিক বলেন,কয়েক মাস আগে বিয়ে হয়েছে। রীতি মেনে আমরা এই কুণ্ডে বিয়ের ফুল ভাসিয়ে সুখ শান্তি প্রার্থনা করেছি। বহু বছর ধরে এই রীতি পালন করে আসছেন এখানকার মানুষ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ