সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
হাসপাতালের নিকুতে ভর্তি ১১ দিনের পুত্রসন্তান। মায়ের সিজার হয়েছে। পেটে সেলাইয়ের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। এই অবস্থাতেই মানসিক চাপ অগ্রাহ্য করে এবং শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করে বসলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায়।
রবিবার আর পাঁচজন সুস্থ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বসে ক্যানিংয়ের দ্বারিকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের একতলার একটি ঘরে বসে দিলেন বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্রের উত্তর। তিনি বাসন্তীর বাসিন্দা। নাম সোনালি বর্মণ। এক মনে দিলেন পরীক্ষা। শেষ হওয়ার পর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করলেন না। ছুটলেন হাসপাতালের দিকে। সদ্যোজাত সন্তানের কাছে।
সোনালিদেবীর আত্মীয়স্বজন সূত্রে জানা গিয়েছে, আট মাসের মাথায় তিন সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে সোনালির সিজার হয়। প্রিম্যাচিওর (সময়ের আগে প্রসব হওয়া) শিশু জন্ম নেওয়ায় মায়ের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাই জন্মের পরই তাঁর সন্তানকে নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করতে হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় হাসপাতাল থেকে ছুটি পাননি সোনালি। সে কারণে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দিতে পারেননি। তবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা দেবেন এমন জেদ চেপে বসে তাঁর মনে। ফলে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও তিনি চিকিৎসকদের কাছে আর্জি জানান। পরীক্ষার আগে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেন। চিকিৎসকরা সব কিছু খতিয়ে দেখে ১১ সেপ্টেম্বর সোনালিদেবীকে ডিসচার্জ করেন। হাসপাতাল থেকে সোনারপুরে নিজের বোনের বাড়ি গিয়ে ওঠেন সোনালি। সেখান থেকেই রবিবার সকালে স্বামীর সঙ্গে আসেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। পুরো সময়জুড়ে পরীক্ষা দেন। সিজার হওয়ার কারণে চলাফেরা করা ও সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে তিনি চিঠি লিখে গ্রাউন্ড ফ্লোরে বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। জানা গিয়েছে, আলাদা করে কিছু বন্দোবস্ত করতে হয়নি। কারণ সোনালিদেবীর সিট স্কুলের গ্রাউন্ড ফ্লোরের একটি ঘরেই পড়েছিল। তাঁর স্বামী মৃণালকান্তি জালী বলেন, ‘একদিকে সন্তান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে পরীক্ষার চিন্তা। মনের অসীম জোর নিয়ে স্ত্রী পরীক্ষা দিয়েছে। শেষ কয়েক সপ্তাহ সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি। এত কিছুর পরও পরীক্ষা দেবে বলে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল।’
এর পাশাপাশি ভাঙা পা নিয়ে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এলেন এক পরীক্ষার্থী। সোনারপুরের অনিকা চট্টোপাধ্যায় এদিন রাজপুর পদ্মমণি গার্লস হাইস্কুলে হুইল চেয়ারে করে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিন সপ্তাহ আগে ওই পরীক্ষার্থীর পা ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও পরীক্ষা দিতে এসেছেন।