Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রাহকদের সোনার গয়না অন্যদের সম্পত্তি দেখিয়ে মোটা টাকার ঋণ, রামপুরহাটে ব্যাংকের লকার জালিয়াতিতে নতুন মোড়

রামপুরহাটে ব্যাংকের লকার জালিয়াতিতে গ্রাহকদের সোনা চুরি ও ঋণের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

গ্রাহকদের সোনার গয়না অন্যদের সম্পত্তি দেখিয়ে মোটা টাকার ঋণ, রামপুরহাটে ব্যাংকের লকার জালিয়াতিতে নতুন মোড়
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে বেসরকারি ব্যাংকের লকার জালিয়াতির মামলায় এবার আরো বিস্ফোরক তথ্য উঠে এল। লকার থেকে গ্রাহকদের আসল সোনার গয়না চুরি করে বিক্রি তো হয়েছেই, সেইসঙ্গে কিছু গ্রাহকের বন্ধক রাখা সোনা অন্য ব্যক্তিদের সম্পত্তি হিসাবে দেখিয়ে সেই লোকদের ব্যাংক থেকে মোটা টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ধৃত ব্যাংক ম্যানেজারকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এখবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রাহকদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Advertisement

পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত ম্যানেজার অনল সাহা ও তার সহযোগী শুধু লকার থেকে সোনা চুরি করে বাজারে বিক্রিই করেনি। কিছু ক্ষেত্রে তারা লকারে থাকা গ্রাহকদের সোনা ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে লাভবান হওয়ার এক জটিল ছক কষেছিল। তারা ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ন’জন গ্রাহকের বন্ধক রাখা আসল সোনার গয়নার বদলে লকারে নকল গয়না ঢুকিয়েছিল। আসল গয়না বাইরে বিক্রি করে দিয়েছিল। তেমনি কিছু গ্রাহকের লকার থেকে আসল সোনার গয়না বের করে তা অন্যদের নামে বন্ধক রেখে মোটা টাকার ঋণও পাশ করিয়েছে। এখনো পর্যন্ত এমন চারজন গ্রাহকের হদিশ মিলেছে। তবে পরে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে পুলিশের অনুমান।
তদন্তকারীরা এখন মূলত তিনটি দিকে নজর দিচ্ছেন। এক, গ্রাহকদের সোনা বন্ধক রেখে যে সমস্ত ব্যক্তিকে মোটা টাকার ঋণ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা কারা? দুই, লকার থেকে সরানো সোনার গয়না বিক্রির টাকা এবং বন্ধক রেখে তোলা লোনের টাকা কোথায় রয়েছে বা কোন অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছে। তিন, ম্যানেজার অনল সাহা একার দায়িত্বে এত বড় অপরাধচক্র চালাতে পারে না। লোন অনুমোদন বিভাগের কোনো কর্মী বা ব্যাংকের কোনো উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই চক্রে যুক্ত আছেন কিনা-তা জানতে ধৃত ম্যানেজারকে জেরা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ২৬জুলাই এই বেসরকারি ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার রাজেশ ঘোষ অনল সাহা ও ব্যাংকের গয়নার মূল্য নির্ধারণকারীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ, ইন্টারনাল অডিটে তাঁরা দেখেন, লকার থেকে ন’জন গ্রাহকের আসল সোনার গয়না গায়েব করে সুকৌশলে নকল সোনা রেখে দেওয়া হয়েছে। লকারে থাকা আসল সোনা বাইরে বিক্রি করে প্রচুর টাকা হাতানো হয়েছে। মালদহে ইংলিশবাজারের সদরঘাটের বাসিন্দা অনল সাহা দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হয়। গয়নার মূল্য নির্ধারণকারী আধিকারিক ঘটনার কিছুদিন পরেই মারা যান। রামপুরহাট আদালতের নির্দেশে অনল পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। এঘটনায় ওই ব্যাংকের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের মনে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ