Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

নয়া বিপদ ইউপিআই লেনদেনে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়ায় ভোগান্তির মুখে ব্যবসায়ী থেকে আমজনতা

ইউপিআই লেনদেনে নয়া বিপদ! নিজের অজান্তেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা নিতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন ছোট ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। প্রায় রোজই এমন অভিযোগ নিয়ে লালবাজার সাইবার থানা, সাইবার সেলে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ী থেকে আমজনতা।

নয়া বিপদ ইউপিআই লেনদেনে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়ায় ভোগান্তির মুখে ব্যবসায়ী থেকে আমজনতা
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ইউপিআই লেনদেনে নয়া বিপদ! নিজের অজান্তেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা নিতে গিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন ছোট ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। প্রায় রোজই এমন অভিযোগ নিয়ে লালবাজার সাইবার থানা, সাইবার সেলে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ী থেকে আমজনতা। 

Advertisement

কলকাতা পুলিসের সাইবার সেলের এক গোয়েন্দার কথায়, ‘কারণ, ‘ফোন-পে’, ‘গুগল পে’-এর মতো ইউপিআই- এর মাধ্যমে অনলাইনে টাকা নেওয়ার সময়, কোনওভাবে যদি সাইবার ক্রাইমে খোয়া যাওয়া টাকা আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউান্টে ঢুকলেই বিপদ। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক আপনার অ্যাকাউন্টটি ‘ফ্রিজ’ করে দেবে। আর একবার ব্যাঙ্ক  অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হলে,  টাকা তোলা বা জমা করা—কিছুই করা যাবে না।’  

মূলত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ার এই নতুন সমস্যা নিয়েই লালবাজারে ছুটে আসছেন ছোট ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ।

কেস-১: মৌলালির এক লটারি টিকিট বিক্রেতা। লটারির টিকিট বিক্রি করে ক্রেতার থেকে দাম হিসেবে ইউপিআই পেমেন্টের মাধ্যমে ৩৩০ টাকা নিয়েছিলেন। ৭ দিনের মধ্যে টিকিট বিক্রেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করে দেয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক।

কেস-২:  বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এক নিরাপত্তারক্ষী। মাসের শেষে সহকর্মীকে ২ হাজার  টাকা ধার দিয়েছিলেন। ওই সহকর্মী পরে  ইউপিআইয়ের মাধ্যমে তাঁকে ২ হাজার টাকা মিটিয়ে দেন। এরপরই সমস্যার শুরু। বেতন হওয়ার পর আর টাকা তুলতে পারছেন না ওই রক্ষী। ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করলে বলা হয়, কর্নাটকের সাইবার ক্রাইমের টাকা ঢোকায় তারা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে।

কেস-৩: গড়িয়ার এক মুদি দোকানি। চাল, ডাল, তেল, নুনের মতো সামগ্রী বিক্রি করে এক অচেনা ক্রেতার থেকে দাম হিসেবে ৫৭১ টাকা অনলাইনে নিয়েছিলেন। তারপরই  হঠাৎ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হয়ে যায়।

সমস্যা হচ্ছে, হালে বাজারে নতুন করে খুচরোর অভাব দেখা দিয়েছে। যার জেরে ইউপিআই রমরমিয়ে জাকিয়ে বসেছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবারই সুবিধা হচ্ছে। কিন্তু একবার ব্যাঙ্ক  অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হয়ে গেলে সাইবার থানা আর ব্যাঙ্ক দৌড়তে গিয়ে ব্যবসায়ী থেকে আমজনতার জুতোর শুকতলা খয়ে যাচ্ছে! লালবাজার বলছে, এক্ষেত্রে নিয়ম হল, বিতর্কিত টাকা ‘হোল্ডে’ রেখে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি চালু করে দেওয়ার কথা ব্যাঙ্কের। কিন্তু ভুক্তভোগী জনতার অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক তা করছে না। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে। 

ইউপিআই লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই নয়া বিপদের বিষয়টি অজানা নয় লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিসের এক গোয়েন্দা আধিকারিকের কথায়,  ‘আপাতত যতটা সম্ভব সচেতন থাকতে হবে।  চেষ্টা করতে হবে অজানা অচেনা কারও থেকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট না নেওয়ার। ইতিমধ্যেই এই নয়া সমস্যার সমাধানে কাজ করছে ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার। এই সংক্রান্ত গাইড লাইন চালু হলেই আশা করা যায় সমস্যা মিটে যাবে।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ