সংবাদদাতা, বনগাঁ: দিন কয়েক আগে পেট্রাপোল সীমান্তে বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা এক মহিলাকে আটক করে বিএসএফ। অভিযোগ, ওই মহিলা সোনার গয়না পরে সোনা পাচারের চেষ্টা করছিলেন। মহিলার কাছে থাকা সোনার গয়নার ওজন ছিল প্রায় ১০৩ গ্রাম। মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা। অন্য একটি ঘটনায় চেন্নাইয়ের বাসিন্দা এক ব্যক্তি সম্প্রতি বাংলাদেশে থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরছিলেন। বিএসএফ জওয়ানদের মেটাল ডিটেক্টরের পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির শরীরে লুকনো ধাতুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মলদ্বারের ভিতরে লুকিয়ে রাখা তিনটি নলাকার সোনার টুকরো পাচারের কথা স্বীকার করেন। তার মূল্য প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে সোনা পাচারের চেষ্টার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ জওয়ানরা আরও বেশি করে সর্তকতামূলক পদক্ষেপ করছেন। গত কয়েক মাসে বনগাঁ মহকুমায় বিভিন্ন সীমান্তে একাধিক পাচারকারী বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর সোনা। ফলে সীমান্তে পাচারও অনেকটাই কমেছে।
শুধু সোনা পাচার নয়। বিএসএফের কড়া পাহারায় বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ‘ধুর পাচার’ও কমেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক সময়ে ধুর পাচারের কেন্দ্র ছিল বনগাঁ, বাগদা, গাইঘাটা সীমান্ত। রাতে তো বটেই, এমনকী দিনের বেলাতেও চোরাপথে এদেশে চলে আসতেন বাংলাদেশিরা। এভাবে বাংলাদেশিদের এদেশে পাচার করে দেওয়াকেই স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘ধুর পাচার’। বর্তমানে সেই পাচারও তলানিতে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্যও বিএসএফের তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। কমেছে চোরাচালান। গাইঘাটার আংরাইল সীমান্তের বাসিন্দা এক মহিলা বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা এপারে এসে নানা অসামাজিক কাজ করত। এখন বিএসএফের কড়া পাহারা থাকায় সেটাও বন্ধ হয়েছে।