নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিএনএসএসের নতুন ধারায় হাওড়া সিটি পুলিশের সাঁকরাইল থানা রাজ্যে প্রথম তদন্ত চলাকালীন বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি আট্যাচমেন্ট করতে চলছে। বৃহস্পতিবারই দীর্ঘ সওয়ালের পর পুলিশের এই আবেদন মঞ্জুর করেছে হাওড়া আদালত। দ্রুত এই সম্পত্তির দখল নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানাকে। সম্পত্তির নিলাম পর্ব পরের ধাপে শুরু করবে পুলিশ।
চলতি বছরের মে মাসে সাঁকরাইল এলাকার একটি কোম্পানির তরফে সেখানকার ছয় কর্মীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ জালিয়াতি প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। তদন্তে উঠে আসে, খাতায়কলমে টাকা এসেছে বলে অভিযুক্ত কর্মীরা কোম্পানির রেজিস্টার বুকে দেখিয়েছে। কিন্তু ১৫ কোটির বেশি টাকা তারাই আত্মসাৎ করেছে। পরে নিজেরা এই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। তার ভিত্তিতে বিকাশ হরিসহ কয়েকজন কর্মী গ্রেপ্তার হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন,কোম্পানির কর্মী বিকাশ হরি ও তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে। যা কেনা হয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে। এই সময়ে সে মোট ৩৪ লক্ষ টাকা বেতন পেয়েছে। অথচ ৬৪ লক্ষ টাকার সম্পত্তি কেনা হয়েছে। যা তছরুপ করে আসা টাকায় কেনা বলে দাবি পুলিশের। বিএনএসএসের ১০৭ নতুন ধারায় এই সম্পত্তি অ্যাটাচমেন্ট করার জন্য হাওড়া আদালতে আবেদন জানায় সাঁকরাইল থানা। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি ছিল হাওড়া আদালতের সিজেএম গৈরিক রায়ের এজলাসে।
সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক আদালতে বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত বিকাশ হরি চাকরি ভিন্ন আর অন্য কাজ করত না। চাকরির বাইরে অন্য জায়গা থেকে অর্থ আসার কোনও উৎস ছিল না। বেতনের চেয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থে সম্পত্তি কেনাতেই প্রমাণ হয় এই টাকা অপরাধ করে পাওয়া। আয়ের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে তিনি এই সম্পত্তি কিনলেন কী করে, তার ব্যাখ্যা দিতে পারেনি অভিযুক্ত। সেই কারণে অ্যাটাচমেন্ট করতে চান এই সম্পত্তিগুলি। যদিও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, এই সম্পত্তি যে তছরুপের টাকায় নয়, তার প্রমাণ রয়েছে। সওয়াল শেষে আদালত এই সম্পত্তি অ্যাটচমেন্ট করার নির্দেশ দেয়। দু-একদিনের মধ্যেই এগুলির অ্যাটাচমেন্ট হয়ে যাবে বলে
সূত্রের খবর।