সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনে পরিবর্তনের পর রোগী পরিষেবার বিভিন্ন খামতি সামনে আসতে শুরু করেছে। নতুন প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজিত মিস্ত্রি এবং এমএসভিপি ডাঃ কৌশিক ঈশোর দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দু’দিন ধরে সকালেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শনে উঠে এসেছে ওয়ার্ডগুলির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, শয্যার অভাব এবং পরিকাঠামোগত নানা সমস্যা। বহু রোগী এখনও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, প্রিন্সিপালের অফিস ও করিডর সংস্কারে গুরুত্ব দিয়ে মার্বেল ও টাইলস বসানোর কাজ হলেও রোগী পরিষেবার জন্য জরুরি ওয়ার্ড সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেই একই উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বহু কাজ দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রিন্সিপাল ও এমএসভিপি শিশু বিভাগ, নির্মীয়মাণ ক্যান্সার ইউনিট, গাইনি বিভাগ সহ একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন। ডাঃ কৌশিক ঈশোর বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। সরকারের নীতি অনুযায়ী রোগী পরিষেবার মান উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতেই অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ক্যানসার ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করতে এদিন পূর্তদপ্তরের আধিকারিক, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রিন্সিপাল। চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী সংস্থা জানিয়েছে, সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজ শেষ হলেই ৩০ দিনের মধ্যে যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব। তবে পূর্তদপ্তর কবে নির্মাণকাজ শেষ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ডাঃ কৌশিক ঈশোর জানান, সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নতুন ক্যানসার ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, পরিকাঠামোগত ঘাটতি এবং রোগী পরিষেবার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।