Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নয়াচর দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী নয়া সরকার, শীঘ্রই নোটিস জারি

হলদিয়ার নয়াচর দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন দ্রুত নোটিস জারি করবে। নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপের গুরুত্ব বিশাল। বিস্তারিত পড়ুন।

নয়াচর দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী নয়া সরকার, শীঘ্রই নোটিস জারি
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, হলদিয়া: রাজ্যে পালাবদলের পর এবার হলদিয়ার নয়াচর দ্বীপে বেআইনিভাবে  বসবাসকারীদের দখলমুক্ত করতে তৎপর হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। হলদিয়া শিল্পাঞ্চল সহ রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নয়াচরে প্রস্তাবিত ফিশিং হাব দ্রুত রূপায়ণের জন্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। নয়াচর দখলমুক্ত করতে শীঘ্রই সরকারি নোটিস জারি করা হবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা, হলদিয়ার মহকুমা শাসক সুরভি সিংলা সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী নয়াচরে যান। সেখানে বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র দেখেন প্রশাসনের কর্তারা। দেখা যায়, নয়াচরের বসবাসকারীরা প্রত্যেকেই পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিভিন্ন ব্লকের বাসিন্দা। পরিচয়পত্র দেখার পরই ওই বাসিন্দাদের নিজেদের এলাকায় ফিরে যেতে নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের সাফ কথা, বহিরাগত কিছু দূষ্কৃতী নয়াচরে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে নিরাপত্তা নিয়ে একটা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। সেজন্য নয়াচরের সকলকেই সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নয়াচরে বেআইনিভাবে দখলদারি করে মাছ চাষের জন্য সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিনই নবান্নে রাজ্যের বন্দর ও জলপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নয়াচরের প্রসঙ্গ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকেও নয়াচর নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান। ফলে একইদিনে জেলা প্রশাসনের নয়াচর পরিদর্শন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নয়াচরে সমস্ত জমি মৎসদপ্তরের হাতে আসার পর সেগুলি টেন্ডারের মাধ্যমে মাছ চাষের জন্য তুলে দেওয়া হবে। আর নয়াচরের মৎসজীবীদের দাবি, তারা সরকারকে রাজস্ব দিয়েই মাছ চাষ করতে চায়। পূর্ববর্তী সরকারকে বার বার বলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তাঁরা চাইছেন, আইনি পথেই সরকার তাঁদের নয়াচরে মাছ চাষের অনুমতি দিক। এদিন জেলাশাসক বলেন, নিরাপত্তার কারণে নয়াচর দখলমুক্ত করা খুবই জরুরি। জেলা প্রশাসন সরেজমিনে দ্বীপে গিয়ে বাসিন্দাদের তা জানিয়ে দিয়েছে। এবার মৎস্যদপ্তর কয়েকদিনের মধ্যেই নয়াচরে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য নোটিস দেবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ সরে না গেলে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে। কারণ ওই জমি সরকারের। সেখানে কেউ দখল করে দিনের পর দিন থাকতে পারে না। জেলাশাসক আরও বলেন, নতুন করে টেন্ডার ডেকে নয়াচরে পুকুর লিজে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। মৎস্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়াচরে ১০ হাজার একর জমিতে ছয়-সাত হাজার একর জলাভূমি রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সমীক্ষা করে মৎস্যদপ্তর দাবি করেছিল, নয়াচরে মাছ চাষ করে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি বাণিজ্য হয়। 
প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের সময়ে নয়াচরে ফিশিং হাব গড়তে মোট ৯১১৬ একর জলাশয়ে মিশ্র ও ভেনামি মাছ চাষের জন্য ই-অকশন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু, বার বার ওই ই-অকশান ডেকেও কোনো লাভ হয়নি। হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলিও বৃহস্পতিবারে মুখ্যমন্ত্রী ও জাহাজমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সাগরমালা-টু প্রকল্পে সাগর দ্বীপ থেকে দীঘা পর্যন্ত উপকূল এলাকায় নানা উন্নয়ন হবে। প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে নয়াচরেরও উন্নয়ন হবে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ