নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন রেশন কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হচ্ছে রাজ্য সরকার। রেশন কার্ড ইস্যু হওয়ার পরপরই তা দিয়ে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করা যায় না। কিন্তু জালিয়াতির উদ্দেশে তা ব্যবহার করে কেউ যাতে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বের করতে না পারে, তার জন্যই নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। রেশন কার্ড ইস্যু করার ক্ষেত্রে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) তৈরি করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে খাদ্যদপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, আবেদনকারী তাঁর ই-কেওয়াইসি (আধার যাচাই) সম্পন্ন করলে তবেই কার্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই আধার নম্বরে একাধিক রেশন কার্ডের আবেদন থাকলে যাতে কার্ড ইস্যুর প্রক্রিয়াই শুরু না হয়, তাও নিশ্চিত হবে খাদ্যদপ্তরের এই বিশেষ পদক্ষেপে। আবেদনকারীর আধার নম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ ইউআইডিএআই-কে দিয়ে যাচাই করানো হবে। আবেদনকারীর জন্ম সার্টিফিকেট যাচাই করানো হবে স্বাস্থ্যদপ্তরের মাধ্যমে। নতুন রেশন কার্ডের জন্য অনলাইন ও অফলাইন, দু’ভাবেই আবেদন করা যায়। দু’টি ক্ষেত্রেই এই নয়া বিধি কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
খাদ্যদপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে একই আধার নম্বরে একাধিক রেশন কার্ড সক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কার্ড দেওয়ার জন্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, একই আধার নম্বরে একাধিক কার্ডের জন্য বহু আবেদন জমা পড়েছে। এরকম ক্ষত্রে কার্ড ইস্যু হয়ে গেলেও তা দিয়ে রেশন তোলা যায় না। এই ধরনের কার্ডের জন্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দও করা হয় না। কিছুদিনের মধ্যে কার্ডগুলি বাতিলও করে দেওয়া হয়। কিন্তু খাদ্যদপ্তর রেশন কার্ড ব্যবহার করে জালিয়াতির সমস্ত সুযোগ বন্ধ করতে তৎপর। তাছাড়া, একই আধারে একাধিক কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে যে সময় ও অর্থ খরচ হয়, তা বাঁচানোও লক্ষ্য খাদ্যদপ্তরের।
তাই ঠিক হয়েছে, আবেদনকারী ভুয়ো নয়, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই সক্রিয় রেশন কার্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এখন গ্রাহকের কাছে ডাকযোগে রেশন কার্ড পৌঁছে দেওয়ার আগে অনলাইনে ই-রেশন কার্ড ইস্যু করে দেওয়া হয়। তা দিয়ে রেশন না তোলা গেলেও সেটি কাজে লাগিয়ে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। এটাই বন্ধ করতে চাইছে রাজ্য। তাই আবেদনকারী ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে তবেই মিলবে ই-রেশন কার্ড। আবেদনকারীর আধার ও বার্থ সার্টিফিকেট যাচাই হওয়ার পর রেশন কার্ড দিয়ে পুরোপুরি সক্রিয় হবে। নতুন ব্যবস্থায় প্রথমেই আবেদনকারীর আধার নম্বর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বা নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তারপর অনলাইনে মিলবে ই-রেশন কার্ড। ফলে কোনও ভুয়ো আবেদনকারী ই-রেশন কার্ডও পাবেন না। এরপর আরও যাচাই প্রক্রিয়ার পর ছাপানো কার্ড আবেদনকারীর বাড়িতে পৌঁছবে।