Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক বিজ্ঞাপনের আড়ালে এবার নয়া সাইবার জালিয়াতির ফাঁদ, টার্গেট যুবসমাজ, ২ মাসে দেশজুড়ে উধাও ১৪৫ কোটি!

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদার চলছে পর্নোগ্রাফিক বিজ্ঞাপন। সাইবার বিশেষজ্ঞমহলের তথ্য বলছে, এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক বিজ্ঞাপনের আড়ালে  এবার নয়া সাইবার জালিয়াতির ফাঁদ, টার্গেট যুবসমাজ, ২ মাসে দেশজুড়ে উধাও ১৪৫ কোটি!
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদার চলছে পর্নোগ্রাফিক বিজ্ঞাপন। সাইবার বিশেষজ্ঞমহলের তথ্য বলছে, এই সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের দর্শকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই বিজ্ঞাপনই সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার পরিভাষায় এতেই ‘ক্লিক’ বা ‘রিচ’ সবচেয়ে বেশি। এবার সেই বিজ্ঞাপনেই সাইবার জালিয়াতির নয়া ফন্দি এঁটেছে প্রতারকরা। পর্নোগ্রাফিক বিজ্ঞাপনের আড়ালেই রয়েছে ভুয়ো ওয়েবসাইট। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই সেই সাইটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবেন মোবাইল ব্যবহারকারী। তাতেই যাবতীয় তথ্য প্রতারকদের নাগালে। নিমেষে ফোনের কন্ট্রোল চলে যাবে তাদের হাতেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের আড়ালে এই নয়া প্রতারণার ফাঁদে অতিষ্ঠ দেশবাসী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত দু-মাসে এই প্রতারণা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র দু-মাসের মধ্যেই দেশজুড়ে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। 

Advertisement

ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (আইফোরসি) তরফে সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে এই নয়া বিপদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইফোরসি জানিয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু অসাধু অ্যাপের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই লুকিয়ে রয়েছে ভুয়ো এপিকে ফাইলের লিঙ্ক। কোন কোন অ্যাপে এধরনের প্রতারণার ফাঁদ লুকিয়ে? আইফোরসির দাবি, প্রতারণার উদ্দেশ্যে ‘নাইট প্লে’, ‘রিলুপ’, ‘কিস’, ‘ভিমো’, ‘রিমো’, ‘নেক্সো’, ‘ভিক্সা’ সহ বেশকিছু পর্নোগ্রাফিক অ্যাপের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত যুবসমাজকে এই ধরনের অ্যাপের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আকৃষ্ট করার টার্গেট নিয়েছে সাইবার প্রতারকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই বিজ্ঞাপন দেখে অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য বিজ্ঞাপনে ক্লিক করছেন উৎসুকরা। বিজ্ঞাপনের মধ্যেই ইন্টিগ্রেট করা রয়েছে ফোন হ্যাকিং এপিকে ফাইল। ফলে ক্লিক করামাত্রই সেই এপিকে ফাইল গ্রাহকের অজান্তেই ডাউনলোড হয়ে যাচ্ছে তাঁর মোবাইলে। 
তাঁর অজান্তেই ফোন স্ক্রিনের একটি কপি চলে যায় প্রতারকদের কাছে। গ্রাহকের মোবাইলে চলা যাবতীয় কাজকর্ম হাতের নাগালে থাকার জেরে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপ (ব্যাংক, স্টক ব্রোকার সংক্রান্ত) চালানোর জন্য নতুন করে ‘পারমিশন’ বা অনুমতি চাওয়া হয়। সেই অনুমতি দেওয়ামাত্রই গায়েব হয়ে যেতে পারে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমানো পুঁজি। শুধু তাই নয়, আর্থিক প্রতারণার আগেই গ্রাহক ওই পর্নোগ্রাফিক অ্যাপ তাঁর মোবাইল থেকে আন-ইনস্টল করতে পারবেন না। কিন্তু, কেন? আইফোরসির দাবি, এই বিজ্ঞাপনের আড়ালে অসাধু এপিকে ফাইলের সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)। যার ফলে মোবাইলের ইন্টারনেটের কন্ট্রোলও চলে যায় প্রতারকদের হাতে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মোবাইল থেকে কিছুই মুছে দিতে পারবেন না ব্যবহারকারী। 
কীভাবে এধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলা যাবে? সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগল প্লে, অ্যাপল স্টোর বা বিশ্বাসযোগ্য কোনো অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্যকোথাও থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। সন্দেহজনক কোনো লিঙ্কেই ক্লিক করা যাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ