


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে পুলিসের কড়াকড়িতে প্রায় বন্ধ নদী থেকে বেআইনি বালি তোলা ও পাচারের কারবার। কিন্তু মধ্যরাতে ঝাড়খণ্ড থেকে জামবনীর জঙ্গললাগোয়া গ্ৰামের পথ দিয় বাংলায় বালি পাচার চলছেই। পড়শি রাজ্যের চাকুলিয়া, শালডোবা মানুষমুড়িয়া হয়ে জামবনীর কুড়ারিয়া, সোনামুখী হয়ে উঠেছে বালি পাচারের নয়া করিডর।
ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামীম বিশ্বাস বলেন, ‘জামবনীর সীমানা লাগোয়া এলাকায় একাধিক জঙ্গল পথ রয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে লাগাতর অভিযান চালিয়ে বৈধ চালান ছাড়া ১২টি বালি বোঝাই লরি আটক করা হয়েছে। জঙ্গল পথে আরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঝাড়গ্রামের সীমানা লাগোয়া ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা। ওই সীমানা বরাবর বিস্তীর্ণ জঙ্গল। সংলগ্ন গ্ৰামগুলির সঙ্গে দুই রাজ্যের যোগাযোগের একাধিক পথ রয়েছে। রাত যত বাড়ে ওইসব পথে বালি বোঝাই ছোট লরির দাপাদাপি তত বাড়তে থাকে। ঝাড়খণ্ড থেকে জামবনী হয়ে সেগুলি ঢুকে পড়ে বাংলায়। জামবনীর সীমানা লাগোয়া চিঁচিড়া চেক পোস্টে পুলিসের কড়া নজরদারি থাকে।কিন্তু ওই পথটি খুব একটা মাড়ায় না পাচারকারীরা। পাছে পুলিসের নজরে পড়ে যায়। সেই কারণেই বেছে নেওয়া হচ্ছে জঙ্গলের পথ।
ঝাড়গ্রাম শহরে ৭টি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। টেন্ডার ও অনান্য ছাড়পত্র মিললেও ৫৪টি বালি খাদানএখনও চালু করা যায়নি। আবাস প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য জেলাসহ রাজ্যজুড়ে বালির চাহিদা বেড়েছে। গোপীবল্লভপুর -১ ও ২ ব্লকের সুবর্ণরেখা নদীর খাদান থেকে বালি তুলে ছ’ চাকার গাড়িতে করে নিয়ে গেলে গাড়ি পিছু দাম ১১ হাজার টাকা। ষোলো চাকার সেই দাম গিয়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজারে। গোপীবল্লভপুরে ব্লক এলাকার মধ্যে বালির লরি নিয়ে গেলে ট্রান্সপোর্ট ভাড়া ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।ঝাড়গ্রাম শহরে আনতে গেলে সেই ভাড়া পড়ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার ওপরে। ঝাড়খণ্ডের বালি পাচার কারবারীরা ট্রান্সপোর্ট ফি ফাঁকি দিতে পুরোমাত্রায় সুযোগ নিচ্ছে। জঙ্গল পথ দিয়ে ছোট লরি ও ট্রাক্টর দিয়ে বালি পাচার করা হচ্ছে।
সোনামুখী এলাকায় বাসিন্দা সহদেব মাণ্ডি বলেন, ‘মাঝরাতেঝাড়খণ্ডের দিক থেকে জঙ্গল লাগোয়া পথ দিয়ে বালি বোঝাই লরি চলাচলের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। সেগুলি যখন যায় তখন আমাদের বাড়িগুলি কেঁপে ওঠে । ঘুম ভেঙে যায়।‘জেলায় বালি কারবারে যুক্ত এক ব্যবসায়ী বলেন, বৈধ বালি খাদানের সংখ্যা পাঁচটিতে এসে ঠেকেছিল। জেলা প্রশাসনের তরফে কিছুদিন আগে তিনটি খাদানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।আবাস প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য বালির চাহিদা বেড়েছে। বালির জোগান কম। বালি কারবারে যুক্ত ব্যবসায়ীরা ব্যবসা মার খাচ্ছে। ভিনরাজ্যেরবালি কারবারিরা সেই সুযোগ নিচ্ছে। গোপীবল্লভপুরের এসডিপিও পারভেজ সরফরাজ বলেন, ‘ভিন রাজ্যে যাতায়াতের প্রধান রাস্তায় দিনে ও রাতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমানা লাগোয়া বিস্তীর্ণ জঙ্গলে বহু পথ রয়েছে। সেই পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’ প্রতীকী চিত্র