Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলীদের থেকে ‘প্রোটেকশন মানি’ আদায়ে গ্যাং তৈরি নব্য বিজেপিদের

‘প্রোটেকশন মানি’ আদায় করতে গ্যাং তৈরি করেছে নব্য বিজেপিরা। তাদের দাবি মতো টাকা দিলে তৃণমূলের নেতা বা কর্মীদের বাড়িতে থাকতে কোনো অসুবিধা নেই।

তৃণমূলীদের থেকে ‘প্রোটেকশন মানি’  আদায়ে গ্যাং তৈরি নব্য বিজেপিদের
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘প্রোটেকশন মানি’ আদায় করতে গ্যাং তৈরি করেছে নব্য বিজেপিরা। তাদের দাবি মতো টাকা দিলে তৃণমূলের নেতা বা কর্মীদের বাড়িতে থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। টাকা না দিলেই যেতে হচ্ছে শ্রীঘরে। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ করা হচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে। প্রোটেকশন মানি নিয়েই নব্য বিজেপিরা ফুলেফেঁপে উঠছে। প্রবীণ বিজেপি নেতা নরেশ কোনার বলেন, যাঁরা এসব করছেন, তাঁরা এখনো আমাদের দলকে চিনতে পারেননি। টাকা নিয়ে যাঁরা তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে, তাঁদেরও জেলে যেতে হবে। অন্যায়ভাবে যাঁরা টাকা আদায় করছেন, তাঁদের কোনোভাবেই ছাড়া হবে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসছেন, তাঁদের কেউ অনৈতিক কাজে জড়াবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে দেওয়ানদিঘি থানা এলাকার এক তৃণমূল নেতার কাছে থেকে ‘প্রোটেকশন মানি’ দাবি করা হয়। তিনি তা না দেওয়ায় বাড়িতে ঢুকে তাঁর ৮০ বছরের ঠাকুমা এবং বয়স্ক বাবা, কাকাকে মারধর করা হয়। দেড় মাস আগে আর এক তৃণমূল নেতার কাছেও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল, তা দিতে না পারায় তাঁকে আত্মহত্যা করতে হয় বলে অভিযোগ। 
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, জেলাজুড়ে আমাদের বহু নেতা এবং কর্মী ঘর ছাড়া হয়ে রয়েছেন। যাঁরা ওদের টাকা দিতে পারছেন, তাঁরা ঘরে ফিরছেন। আর যাঁরা পারছেন না, তাঁদের বাইরে থাকতে হচ্ছে। অনেকে চাষের কাজও করতে পারছেন না।
বিজেপি সূত্রে‌ জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে খণ্ডঘোষের এক চাষির কাছে থেকে টাকা দাবি করা হয়েছিল। তিনি তা না দেওয়ায় তাঁর চাষ আটকে দেওয়া হয়। পরে তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে অভিযোগ করেন। অনেকে ভয়ে অভিযোগ করছে না। বিজেপির আর এক নেতা বলেন, বহু অত্যাচারী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বর্ধমান শহরের তিন থেকে চারজন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। বর্ধমান-২ ব্লকের কয়েকজন নেতাও তৃণমূল জমানায় দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন। জমি দখল থেকে তোলা আদায় সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছিল। কিন্তু তাঁরা গ্রেপ্তার হননি। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম অভিযোগ ছিল, তাঁদের শ্রীঘরে যেতে হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে।  ‘প্রোটেকশন মানি’ নিয়ে নিরাপত্তা দিতে তৈরি হওয়া এই গ্যাংকে নিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অসন্তষ্ট। বারবার তাঁরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে এই গ্যাং দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিজেপি নেতা ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য বলেন, দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে যা যা করা দরকার সবটাই হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ