নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপালের সাম্প্রতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এখনই চালু হচ্ছে না বুদ্ধ এয়ার সংস্থার কলকাতা-কাঠমান্ডু বিমান চলাচল। প্রথমে ঠিক ছিল ১ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতা-কাঠমাণ্ডুর মধ্যে সোম ও শুক্রবার বিমান চলাচল করবে। ওই বিমান সংস্থার তরফে সেইমতো প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিজিসিএ ছাড়পত্র না দেওয়ায় ওইদিন থেকে তা শুরু করা যায়নি। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয়, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে এই বিমান পরিষেবা চালু হবে। কিন্তু অশান্ত নেপালের যা পরিস্থিতি, তাতে এখনই কলকাতার সঙ্গে কাঠমান্ডুর বিমান চলাচল হচ্ছে না বলেই খবর।
কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত বিষয়টি স্থগিতই থাকছে। কবে তা চালু হবে, তার কোনও সুনিশ্চিত দিনক্ষণ এখও পর্যন্ত নেই। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের মত ছিল, কলকাতা-কাঠমান্ডুর বিমান চলাচল নিয়ে সকলের মধ্যে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সম্ভাবনা ছিল ভালো বাজার তৈরির। কিন্তু নেপালের এখনকার অবস্থা পর্যটন ব্যবসায় বড়োসড়ো ধাক্কা। ট্রাভেল
এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা বলছেন, এখন পর্যটনের মরশুম। নেপালে যে অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে, তা কেউই হলফ করে বলতে পারবেন না। পর্যটন ব্যবসার ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে।
ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটর্সের চ্যাপ্টার চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত বলেন, বিভিন্ন তথ্য থেকে উঠে এসেছে নেপালের ডিজিপির ৬.৬ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। সেখানকার ১৫ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান হয় শুধুমাত্র পর্যটন বিভাগে। ফলে নেপালে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা পর্যটন ব্যবসার উপর এক বড়ো আঘাত। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত নেপালে ভরা পর্যটনের মরশুম। ঠিক পর্যটনের বাজার শুরুর মুখেই এই ধাক্কা এসেছে। এর বিরূপ প্রভাব আগামী দিনেও পড়তে চলেছে।
পর্যটন সংস্থাগুলির অফিসে এখন ঘন ঘন ফোন আসছে, যাঁদের নেপাল যাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা ট্যুর প্ল্যান বাতিল করছেন। দেবজিৎ দত্ত উল্লেখ করেছেন, গতবছর নেপালে ১০-১১ লাখ বিদেশি পর্যটক গিয়েছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষজনের কাছে বুদ্ধগয়া, লুম্বিনী, সারনাথ প্রভৃতি জায়গা ছিল সেরা আকর্ষণ। কিন্তু নেপালের জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলিতে এখনই বিদেশি পর্যটকরা আসবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনা ভারতের পর্যটন ব্যবসার উপরেও খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।