কাঠমাণ্ডু: দাউদাউ করে জ্বলছে একের পর এক সরকারি বাসভবন। ঠিক তার সামনে দাঁড়িয়ে হাত ধরাধরি করে নাচছেন প্রেমিক-প্রেমিকা। ধরপাকড় থেকে বাঁচতে যখন সবাই দৌড়চ্ছে, তখনই খালি গায়ে খেলনা বন্দুক হাতে রাস্তায় হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছে যুবক। যেন যুদ্ধে নেমেছে! পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌড়তে দৌড়তেই হাসিমুখে নিজের ভিডিও করছেন এক বিক্ষোভকারী। ‘জেন-জি’র সরকার বিরোধী বিদ্রোহে যখন উত্তাল নেপাল, তখনই কাঠমাণ্ডু সহ বিভিন্ন শহরে তোলা এমনই হাজার হাজার ‘রিল’, ‘মিম’, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আশপাশের চরম উত্তেজনার যেন কোনও আঁচই পড়েনি ওই যুবক-যুবতীদের গায়ে। রাজনীতিকদের দেদার দুর্নীতি, বেকারত্ব, তার উপর ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা—দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ফেটে পড়েছিল ‘বুদ্ধের দেশে’। সেই ক্ষোভের আগুন থেকে রক্ষা পায়নি নেপালের পার্লামেন্ট ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, অভিজাত হোটেল থেকে থেকে শুরু করে নেতাদের বাড়ি। মার খেতে হয়েছে মন্ত্রীদের। আর সেই বিদ্রোহ ‘উদযাপন’ করতে সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিয়েছে নেপালের ‘জেন জি’। একের পর এক রিল, স্ন্যাপচ্যাট ভিডিও, লাইভ ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে, সেনার সাঁজোয়া গাড়ির নীচে শুয়ে পড়ে নিশ্চিন্তে মোবাইল ফোন দেখছে একজন। আবার অনেকে রাস্তায় বসে তাস খেলছে। এছাড়া বাড়ি থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার ভিডিও তো রয়েছেই। উদযাপনের ‘রিলে’ ধরা পড়েছে নেতাদের ঘিরে ধরে পিটুনি, তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর বা হেলিকপ্টারে চেপে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও। নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সেই সব ‘কনটেন্ট’, যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একদিকে যেমন হিংসার নিন্দা করেছেন অনেকে, আবার বহু মানুষ ‘জেন-জি’র এই উদযাপনে পাশে দাঁড়াচ্ছেন।



