কাঠমাণ্ডু: গত সপ্তাহের শনিবারও পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করছিল কাঠমাণ্ডুর দরবার স্কোয়ার। অন্যান্য দিনের মতোই পশুপতিনাথ মন্দিরের বাইরেও ছিল পুণ্যার্থীদের ঢল। কিন্তু মাত্র দু’দিনে পরিচিত এই ছবি একেবারে বদলে যায়। সরকারের বিরুদ্ধে গণ অসন্তোষের বিস্ফোরণে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে কাঠমাণ্ডু সহ সমগ্র নেপালই। পর্যটনস্থলগুলিতে নিমেষে ভিড় উধাও হয়ে যায়। বিদ্রোহের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আর তারপরই শনিবার থেকে চেনা ছন্দে ফিরল বুদ্ধের দেশ। উঠে গিয়েছে কার্ফিউ। কাঠমাণ্ডু স্কোয়ারে দোকান ও শপিং মলের ঝাঁপ খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। রাস্তায় জমল ভিড়ও। এদিন কাঠমাণ্ডু বাজার পরিষ্কার করা হয়। বিদ্রোহীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ভবনগুলির মেরামতির কাজও শুরু হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক উত্তাপ অব্যাহত রয়েছে। সংসদভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নেপালের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সদ্য ভেঙে যাওয়া নিম্নকক্ষের স্পিকারও এর বিরোধিতা করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ গণআন্দোলনের চেহারা নেয় সোমবার। পুলিসের গুলিতে মৃত্যু হয় বহু আন্দোলনকারীর। ইস্তফা দিতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে কয়েকদিনের টানাপোড়েনের পর শুক্রবার নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। নেপালের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। শপথ গ্রহণের পর সুশীলার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা যায় ‘জেন জি’ আন্দোলনের মুখ সুদান গুরুংকে।
জানা গিয়েছে, সরকার বিরোধী আন্দোলনে অশান্তির জেরে গত কয়েকদিনে নেপালে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জনিয়েছেন কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ। আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রী সুশীলাও।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বৈঠকে সংসদ ভঙ্গের সুপারিশ করেন সুশীলা। নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল সেই প্রস্তাবে সই করেন। একইসঙ্গে জানান, ২০২৬-র ২১ মার্চ নতুন করে নির্বাচন হবে। এতেই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নেপালের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দল এবং আইনজীবী সংগঠন। অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে নেপালি কংগ্রেস জানিয়েছে, ‘সংসদ ভঙ্গ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সংকটের মুখে ফেলেছে।’ নেপালের কমিউনিস্ট দলগুলিও এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। অন্যদিকে নেপাল বার অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ‘এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মর্যাদা নষ্ট করছে এবং জনগণের আস্থা দুর্বল করছে।’



