Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেলঘরিয়ায় কুকুরপ্রেমী দম্পতির সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিবাদ, মারপিটে হুলস্থূল

সারমেয় প্রেম। আর তাকে ঘিরেই বেলঘরিয়ায় যতীন দাস নগরে হুলস্থূল পরিস্থিতি। নিত্য কথা কাটাকাটি, ঝামেলা থেকে হাতাহাতি। তা গড়িয়েছে থানা ও আদালতে।

বেলঘরিয়ায় কুকুরপ্রেমী দম্পতির সঙ্গে প্রতিবেশীদের বিবাদ, মারপিটে হুলস্থূল
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সারমেয় প্রেম। আর তাকে ঘিরেই বেলঘরিয়ায় যতীন দাস নগরে হুলস্থূল পরিস্থিতি। নিত্য কথা কাটাকাটি, ঝামেলা থেকে হাতাহাতি। তা গড়িয়েছে থানা ও আদালতে। পুলিশ, স্থানীয় কাউন্সিলারের হস্তক্ষেপেও মেটেনি সমস্যা। গত সপ্তাহে ফের মারপিটের ঘটনায় বেলঘরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কুকুরপ্রেমী এক দম্পতি। অন্যদিকে, পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছেন পাড়ার বাসিন্দারাও। সব মিলিয়ে শারদীয়া উৎসবের মধ্যে পুজো নয়, কুকুর নিয়ে আলোচনায় মত্ত পাড়ার বাসিন্দারা।

Advertisement

বেলঘরিয়ার যতীন দাস নগরের বাসিন্দা সাগর বোস পেশায় টেবিল টেনিসের কোচ। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। এই দম্পতি সারমেয়প্রেমী। তাঁর বাড়িতে ১১টি দেশি কুকুর রয়েছে। রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পর তাঁরা ঘরের কুকুরদের পাশাপাশি পথ কুকুরদেরও খাবার দেন। সেখানে আশপাশের ১০-১২টি কুকুরও খেতে আসে। পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, ওই দম্পতি দিনের বড় অংশই বাড়ির বাইরে কাটান। এদিকে, দিনভর কুকুরের চিৎকারে আমাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। গোটা পাড়া নোংরা করছে তারা। যদিও ওই দম্পতির পাল্টা দাবি, তিনটি পথ কুকুরকে মারা হয়েছে। রাস্তার কুকুরকে বাঁচানোর স্বার্থেই তাঁরা তাঁদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন।
এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওই দম্পতির সঙ্গে নিয়মিত ঝগড়া চলছে পাড়া-প্রতিবেশীর। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই দম্পতি রাস্তার কুকুরকে বাড়ির সামনে খাওয়াচ্ছিলেন। সেই সময় ফের ঝামেলা শুরু হয়। সেই সময় ওই দম্পতিকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁরা গত ১৭ তারিখ ফের বেলঘরিয়া থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
সাগর বোস বলেন, আমরা সন্তান স্নেহে কুকুরদের লালনপালন করি। সামর্থ্য মতো তাদের খাওয়াই। স্থানীয় লোকজন তিনটি কুকুরকে মেরে ফেলেছে। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে ফের আইনি যুদ্ধে যাব। প্রতিবেশী রিঙ্কি দেব বলেন, আমরা কুকুর বিরোধী নই। কিন্তু সারাদিন কুকুরের চিৎকার, তাদের তাড়া করা, রাস্তায় যত্রতত্র কুকুরের মলমূত্র, দুর্গন্ধের জেরে আমাদের টেকা দায় হয়ে উঠেছে। ওই দম্পতিকে মারধর বা কুকুরকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্থানীয় ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অজিতা ঘোষ বলেন, ওই রাস্তায় পুরসভার সাফাই কর্মীরাও ঢুকতে চায় না। আমরা দু’পক্ষকে নিয়ে বসেছি। বার বার বসেও লাভ না হওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ