


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: তিন বছরে এখনও পর্যন্ত শূন্যপদ তৈরি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এথচ নিয়োগ হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার লোকো-পাইলট। অর্থাৎ, এখনও খালি রয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি পদ। শুক্রবার সংসদে রেলে লোকো পাইলটের অভাব সংক্রান্ত অভিযোগ কার্যত মেনে নিতে বাধ্য হল কেন্দ্রের মোদি সরকার। ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ট্রেন চালকদের ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপানোর তত্ত্বই।
শুক্রবার রাজ্যসভায় এসংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে। তারই লিখিত জবাবে ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান পেশ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালে লোকো পাইলটের ক্ষেত্রে ১৮ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর ১৫ হাজার ৪৭ জন প্রার্থীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, ২০২৫ সালে লোকো পাইলটের ৯ হাজার ৯৭০টি শূন্যপদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রথম পর্যায়ের সিবিটি (কম্পিউটার বেসড টেস্ট) প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এরই
পাশাপাশি ২০২৬ সালে ১১ হাজার ১২৭টি পদে লোকো পাইলট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এই সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত শুরু হয়েছে কি না, তার উল্লেখ করেননি অশ্বিনী বৈষ্ণব। অর্থাৎ, রাজ্যসভায় রেলের লিখিত জবাব থেকেই স্পষ্ট যে, তিন বছরে লোকো পাইলটের শূন্যপদ তৈরি হয়েছে মোট ৩৯ হাজার ৮৯৬টি। অথচ ২০২৪ সালে ১৫ হাজার ৪৭ জন ছাড়া আর কোনো নিয়োগই হয়নি।
সম্প্রতি নর্দার্ন রেলের লখনউ ডিভিশনে একজন লোকো পাইলটকে পাইলস সার্জারির পরেও প্রয়োজনীয় বাড়তি ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চিফ ক্রু কন্ট্রোলারের বিরুদ্ধে। একপ্রকার বাধ্য হয়ে ওই লোকো পাইলট সকলের সামনে নগ্ন হন
এবং নিজের শল্য চিকিৎসার প্রমাণ দেখান। এনিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। সেইসঙ্গে আবারও সামনে আসে লোকো পাইলটদের প্রবল চাপে
কাজ করার ঘটনা। এদিন অবশ্য তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, একজন ট্রেন চালককে ১১ ঘণ্টার বেশি ডিউটি দেওয়াই যায় না। রেল আইনেই স্পষ্টভাবে একথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আইন রয়েছে ঠিকই। কিন্তু তার পালন হচ্ছে কি?