Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীর বুকে পাকা বিশ্রামাগার, কাঠগড়ায় রায়পুর পঞ্চায়েত

নদীর বুকে পাকা বিশ্রামাগার, কাঠগড়ায় রায়পুর পঞ্চায়েত
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: নদীর উপরে অবৈধভাবে পাকা নির্মাণের অভিযোগ উঠল খোদ পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেই। ডোমকলের আলীনগরে শিয়ালমারি নদীতে  রীতিমতো পিলার তুলে পাকা বিশ্রামাগার নির্মাণ করেছে রায়পুর গ্রামপঞ্চায়েত। জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধীরাও। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মজে যাওয়া শিয়ালমারি নদীর ওপারে ডোমকলের আলীনগর-কালীগঞ্জ ব্রিজের পাশেই ওই বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। রাস্তা থেকে বিশ্রামাগারে যাওয়ার জন্যও একটি ছোট্ট সেতুও করা হয়েছে। বিশ্রামাগারটি রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে করা হয়েছিল। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৫ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়েছিল। কিন্তু, প্রশ্ন নদী বাঁচানোর দায়িত্ব যাদের সেই পঞ্চায়েত কেন এভাবে বেআইনি নির্মাণ করল? ক্ষোভের সঙ্গে স্থানীয়রা বলছেন, যে অংশে বিশ্রামাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে জনসমাগম হয় না বললেই চলে। পাকা ওই বিশ্রামাগারে গোরু-ছাগল ছাড়া কেউই ঢোকে না। 
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, এই পরিকল্পনা সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। বিশ্রামগার তৈরির সময় আমরা অনেকেই বারণ করেছিলাম। শোনেনি পঞ্চায়েত। এখন তৈরির পর গোরু-ছাগল ছাড়া ওই বিশ্রামাগারে পা মাড়ান না কেউই। ভৈরব-শিয়ালমারি নদী বাঁচাও কমিটির আহ্বায়ক ধীমান দাস বলেন, এগুলো হচ্ছে সরকারিভাবে একটা নদীকে মেরে ফেলা। শিয়ালমারির যে অংশে উৎসমুখ সেখানে স্কুল তৈরি করা হয়েছে। আবার পুরো প্রবাহপথে প্রশাসনের মদতে অজস্র বাড়ি ঘর করে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়া হয়েছে। রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত যে কাজটি করেছে এটা পুরোপুরি অবৈধ। সিপিএমের ডোমকল এরিয়া কমিটির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, তৃণমূল গায়ের জোরে সব জায়গাতেই নদী দখল করে অপকর্ম করছে। পুরসভা এলাকাতেও পুরসভা শিয়ালমারি দখল করে অনেক কাজ করেছে। কবে দেখা যাবে ওই বিশ্রামাগার অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দেবে তৃণমূলের লোকেরা। রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সকিনা বিবি বলেন, আগের বোর্ডের প্রধান মিনা বিবি বোর্ডে থাকাকালীন এই কাজ করেছেন। কেন তিনি নদী দখল করে এই কাজ করেছেন তিনিই বলতে পারবেন। কিন্তু এভাবে একটা নদীর ওপর বিশ্রামাগার নির্মাণ উচিত হয়নি। আমরা এটা সমর্থন করি না। রায়পুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মিনা বিবি একটি মামলায় জেল হেফাজতে থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া নেওয়া সম্ভব হয়নি। ডোমকলের বিডিও শঙ্খদীপ দাস বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ