Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬

এফসিআরএ বিল সমর্থন করলে পদ খোয়াতে পারেন এনসিপিআই সাংসদরা! চাপে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা

সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে বিদ্রোহী তৃণমূলিদের নতুন দল ‘ন্যাশালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-র স্বীকৃতি মিলবে না বলেই একপ্রকার নিশ্চিত।

এফসিআরএ বিল সমর্থন করলে পদ খোয়াতে পারেন এনসিপিআই সাংসদরা! চাপে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে বিদ্রোহী তৃণমূলিদের নতুন দল ‘ন্যাশালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-র স্বীকৃতি মিলবে না বলেই একপ্রকার নিশ্চিত। নরেন্দ্র মোদির সরকার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারদের পৃথক দলের সদস্য বলে মেনে নিয়েছে। কিন্তু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও সংসদে তাঁদের স্বীকৃতি দেননি। তাই আগামী বুধবার যদি সরকার বিতর্কিত ‘ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট’ (এফসিআরএ) বিল পাশ করাতে চায়, কী হবে এনসিপিআই সদস্যদের ভবিষ্যৎ? রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল বাড়ছে। বিলের বিরোধিতায় ভোট দিতে তৃণমূল ‘হুইপ’ জারি করলে বিপাকে পড়ে যাবেন বিদ্রোহীরা। 

Advertisement

‘হুইপ অমান্য করলে ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের সদস্য পদ খোয়া যেতে পারে’ বলেই রবিবার মতামত জানিয়েছেন লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল সংবিধান বিশেষজ্ঞ পি ডি টি আচারে। বলেন, ‘লোকসভা সচিবালয়ের তথ্য বলছে, তৃণমূলের লোকসভার নেতা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সদস্য সংখ্যা ২৮। তাই এর মধ্যে ২০ জন যতই বাইরে বিরোধিতা করুন না কেন, লোকসভায় তৃণমূলের হুইপ মানতে বাধ্য। অন্যথায় সদস্যপদ খোয়া যাওয়াই রুল।’ যদিও আদতে সবটাই নির্ভর করে স্পিকার কী করবেন। 
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং লোকসভায় দলের উপদলনেতা সৌগত রায় স্পষ্টভাষায় জানিয়েছেন ‘এফসিআরএ বিল কোনো মতেই সমর্থন করব না।’ বিজেপি বিরোধী সব দলই এই বিলের বিপক্ষে জানিয়ে ডেরেক বলেন, ‘মাদার টেরিজার মিশনারিজ অব চ্যারিটির মতো সংস্থার অনুদানের ওপরও হস্তক্ষেপ করবে মোদি-শাহ? প্রয়োজনে বন্ধ করে কেড়েও নেওয়া হতে পারে গরিবকল্যাণের বিদেশি অনুদান? মেনে নেওয়া যায়?’ তাই লোকসভায় গত ২৫ মার্চ পেশ হয়ে পড়ে থাকা বিলটি সরকার পাশ করাতে চাইলে প্রবল বিরোধিতা হবে। 
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই আজ থেকে আগামী তিনদিন দলের সব সদস্যকে হাজির থাকতে হুইপ জারি করেছে। আজ সংসদে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের কক্ষেও বৈঠকে বসছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা। ছাত্র-যুবর ওপর পুলিশি অত্যাচার, পেলেট গান, একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর অর্ডার কে দিয়েছিল, তা সংসদের কক্ষে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতেই হবে বলে বিরোধীরা এখনো অবস্থানে অনড়। 
তারই মধ্যে আজ লোকসভায় পেশ হবে কেরল রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিল। হবে কেরলম। বিলটি পেশ করার কথা অমিত শাহর। তিনি কি আদৌ সভায় আসবেন, নাকি রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইকে দিয়ে করাবেন? সেটাই দেখার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ