Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নয়াচরে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে টেলি মেডিসিনই হাতিয়ার জেলা প্রশাসনের

নয়াচরে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে টেলি মেডিসিনই হাতিয়ার জেলা প্রশাসনের
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শ্যামল সেন, হলদিয়া: হলদিয়ার নয়াচর দ্বীপের মৎস্যজীবীদের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে উদ্যোগী হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। কীভাবে নয়াচর দ্বীপের বাসিন্দাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। এজন্য দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকায় দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে টেলি মেডিসিনকে হাতিয়ার করতে চায় স্বাস্থ্যদপ্তর। বাসিন্দাদের আপৎকালীন চিকিৎসা বা রাতবিরেতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে তাদের জন্য সুন্দরবনের মতো ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এখবর জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। ওই ভাবনা থেকেই বুধবার মৎস্যজীবীদের জন্য জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ও হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রমের যৌথ উদ্যোগে মেগা স্বাস্থ্য শিবির আয়োজিত হয়েছে নয়াচরে। 
Advertisement
এদিন নয়াচরের ১৩৮ নম্বর হাজরা বস্তি পকমিল সাইড এলাকায় বড়মাপের স্বাস্থ্য শিবির হয়েছে। দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধের জন্য ১৩৮ নম্বর পয়েন্টকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থাহীন দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকায় এত বড়মাপের শিবির আয়োজন করা ছিল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে চ্যালেঞ্জ। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বে এদিন শিবিরে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রায় ৯০ জনের টিম উপস্থিত ছিল। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিভাস রায় বলেন, মৎস্যজীবীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এই প্রথম এতবড় টিম নয়াচরে পৌঁছেছিল। সুগার, প্রেসার, রক্তপরীক্ষা, ইসিজি, দাঁত, চোখ সহ প্রায় ১০-১৫ রকমের পরীক্ষা করা হয়েছে রোগীদের। জেনারেল মেডিসিন সহ স্কিন, প্রসূতি, শিশু, হৃদরোগ সহ ১৫জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন টিমে। জেলার নার্সিং সুপার, তিনজন সিএমওএইচ এদিন শিবির তদারকি করেছেন। ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য পূর্ণেন্দু জানাও। এক হাজারের বেশি রোগীর চিকিৎসা হয়েছে দিনভর। নয়াচরের মৎস্যজীবীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই তথ্য নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করে জেলাপ্রশাসন ও রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হবে। এই শিবিরের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বাস্থ্য নিয়ে ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী দিনে এই রিপোর্টকে কেন্দ্র করে স্থায়ী পরিকল্পনা করবে জেলা প্রশাসন। তিনি বলেন, এদিন স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন ও মৎস্যজীবীরা নিজেরা বারবার নয়াচরে স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার দাবি জানিয়েছেন। শিবির আয়োজনে স্বাস্থ্যদপ্তরকে দারুন সহযোগিতা করেছে হলদিয়ার রামকৃষ্ণ সারদা মিশন আশ্রম। মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী বিবেকাত্মানন্দজি মহারাজ বলেন, মাসখানেক আগে নয়াচরে কোস্টাল থানায় সোলার প্রকল্প গড়ার সময় স্থানীয় মানুষ মিশন কর্তৃপক্ষের কাছে স্বাস্থ্য শিবির করার দাবি জানায়। তখনই শিবির করার বিষয়ে সিএমওএইচকে মিশনের তরফে আবেদন করা হয়। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর এগিয়ে এসে এখন নয়াচর নিয়ে বড় পরিকল্পনা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনে মৎস্যজীবীদের সংগঠন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করেছেন গত একসপ্তাহ ধরে। এদিন শিবিরের রোগীদের খাওয়ার ব্যবস্থা করাও ছিল অভিনব ব্যাপার। সংগঠনের নেতা ও পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ মণ্ডল, হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান সাধন জানা, মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তরুণ মণ্ডল শিবিরে তদারকি করেন। মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা সঞ্জয় দাস, সঞ্জয় কোলা বলেন, জেলা প্রশাসন দ্রুত নয়াচরে স্বাস্থ্য ও শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করুক।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ