দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সমবায় সমিতিগুলির উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। তৈরি হয়েছে সহযোগিতা মন্ত্রকও। এর দায়িত্বে রয়েছেন মোদি সরকারের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অমিত শাহ। এবার স্কুলের পাঠ্যসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সমবায় এবং এই সংক্রান্ত আন্দোলনের একাধিক প্রসঙ্গ। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে বিশেষ মডিউল প্রকাশ করেছে এনসিইআরটি। আর সেই মডিউল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে চর্চা। কারণ সমবায় নিয়ে এনসিইআরটির ওই বিশেষ পাঠ্যক্রমে তালিকাভুক্ত হয়েছে ঋক বেদ থেকে উপনিষদের প্রসঙ্গও। রয়েছে একাধিক সংস্কৃত শ্লোকও। জানা যাচ্ছে, দেশের সিবিএসই স্কুলগুলিতে সেকেন্ডারি স্টেজে এই বিশেষ মডিউল পড়ানো হবে।
বিরোধীদের অভিযোগ, সমবায় সমিতির কাজকর্ম ব্যাখ্যা করার জন্য বেদ, উপনিষদের প্রসঙ্গ অর্থহীন। মোদি সরকার আসলে আবারও শিক্ষায় গৈরিকীকরণের চেষ্টা করছে। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে বসুধৈব কুটুম্বকমের মতো সংস্কৃত পংক্তিও। এর অর্থ, গোটা বিশ্ব আদতে একটিই পরিবার। ‘লেট আস বি প্রোটেক্টেড টুগেদার, লেট আস বি নার্চার্ড টুগেদার’ বোঝানোর জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে সংস্কৃত পংক্তি। ব্যবহার করা হয়েছে ঋক বেদের শ্লোক। এনসিইআরটির বিশেষ মডিউলে বলা হয়েছে, হাজার হাজার বছর আগে ঋক বেদে যেসব শক্তিশালী মন্ত্র লেখা হয়েছে, কিংবা উপনিষদ লেখা হয়েছে, সেখানে বারবার একসঙ্গে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। একজোট হয়ে প্রত্যেকের ভালোমন্দ চিন্তা করতে বলা হয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের সঙ্গে দায়দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাঠ দেওয়া হয়েছে প্রাচীন ভারতে লেখা বেদ, উপনিষদে। আজকের সমবায়িকার মূল ভিত্তি লেখা হয়েছে প্রাচীন ভারতের এই বেদ, উপনিষদেই। স্পেশাল মডিউলে এমনই উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে একইসঙ্গে স্বাধীনতার আগে এবং পরে দেশের সমবায় আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে এনসিইআরটির এই বিশেষ মডিউলে। সংশ্লিষ্ট পাঠ্যসূচির উপক্রমণিকায় উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালকে সমবায়িকার আন্তর্জাতিক বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।