নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এবার পাঠশালা বসতে চলেছে আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারে। খুন, ডাকাতির দাগী অপরাধীদের হাতেই উঠতে চলেছে চক, পেনসিল। বুড়ো বয়সে তাঁর বলবেন, অ এ অজগর আসছে তেড়ে। আ এ আমটি খাব পেড়ে। কারণ সংশোধনাগারের ৫৫ শতাংশের বেশি বন্দিই নিরক্ষর। টিপসই দিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের একটা বড় সময়। তাদের কথা মাথায় রেখেই এবার সাক্ষরতা অভিযানে নামছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সংশোধনাগারের লাইব্রেরিকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা গ্রন্থাগার থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর বন্দিদের জন্য বই নিয়ে আসা হচ্ছে সংশোধনাগারে। শিক্ষার আলো জ্বালানোর পাশাপাশি খেলাধুলোর বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েদির মধ্যে ন’টি টিম করে শুরু হতে চলেছে আসানসোল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট চান্দ্রেয়ী হাইত বলেন, আমরা বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতা নিয়ে সংশোধনাগারের মধ্যেই সাক্ষরতা অভিযান করার উদ্যোগ নিয়েছি। বেশিরভাগ বন্দিই নিজের নামের বানানটুকু জানে না। আমরা চাইব, তারা যেন সইটুকু করার শিক্ষা অর্জন করে। পাশাপাশি কয়েকজন বইপ্রেমী বন্দিও রয়েছে। তাদের জন্য লাইব্রেরিটি ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সংশোধনারের মধ্যে বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়েছে। আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারে একাধিক ডাকাতি শ্যুটআউটের ঘটনায় বন্দি রয়েছে বিহার, ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত অপরাধীরা। বিভিন্ন সাইবার অপরাধের ঘটনায় মহারাষ্ট্র সহ দক্ষিণ ভারতের বহু অভিযুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আসানসোল রেলপাড় সহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বহু অপরাধী রয়েছে। কেউ ডাকাতি, কেউ খুনের মামলায় অভিযুক্ত। তবে, স্কুলের গণ্ডি টপকায়নি তারা। দীর্ঘদিন সংশোধনাগারে বন্দি থেকে তাদের চেতনা জাগ্রত হয়েছে। তারাও লেখাপড়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। সমাজের এই অন্ধকার জগতের মানুষদের মনে আলো ফেলতেই এই পাঠশালা গড়ার ভাবনা। এই প্রচেষ্ট সফল হলে শিল্পাঞ্চলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে আসানসোল সংশোধনাগার।
Advertisement
জেলের শিক্ষার পরিবেশকে আরও বিকশিত করতে লাইব্রেরির উপর জোর দেওয়ার হয়েছে। একটি পুরনো লাইব্রেরি থাকলেও তা এখন অচল। তাকেই আধুনিক লাইব্রেরির রূপ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নতুন নতুন বই এনে বই পড়ার আগ্রহকে আরও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। সংশোধনাগারে নিয়মিত বন্দিদের জন্য রাখা হচ্ছে বাংলা ও হিন্দি সংবাদপত্র।
শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকও নজর দেওয়া হচ্ছে। সংশোধনাগারে বহু বন্দি মাদকাসক্ত। তাদের জন্য মনোবিদদের খোঁজ করছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। তাঁদের সাহায্য নিয়ে অপরাধ মানসিকতার বিনাশ করার পাশাপাশি মাদকের আসক্তি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বামীজি বলেছিলেন, গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভালো। সেই মন্ত্রকে সামনে রেখে বন্দিদের মধ্যে খেলাধুলোয় জোর দেওয়া হয়েছে। সদ্য শেষ হয়েছে ভলিবল প্রতিযোগিতা। ছ’টি দলের হয়ে মোট ৪৮জন বন্দি অংশ নিয়েছিল এই খেলায়। এবার শুরু হচ্ছে আসানসোল ক্রিকেট লিগ। সাধারণতন্ত্র দিবসে বিজয়ী ও রার্নাসআপ দলকে পুরস্কৃত করবেন খোদ জেলাশাসক। তারপর করা হবে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকও নজর দেওয়া হচ্ছে। সংশোধনাগারে বহু বন্দি মাদকাসক্ত। তাদের জন্য মনোবিদদের খোঁজ করছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। তাঁদের সাহায্য নিয়ে অপরাধ মানসিকতার বিনাশ করার পাশাপাশি মাদকের আসক্তি কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বামীজি বলেছিলেন, গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলা ভালো। সেই মন্ত্রকে সামনে রেখে বন্দিদের মধ্যে খেলাধুলোয় জোর দেওয়া হয়েছে। সদ্য শেষ হয়েছে ভলিবল প্রতিযোগিতা। ছ’টি দলের হয়ে মোট ৪৮জন বন্দি অংশ নিয়েছিল এই খেলায়। এবার শুরু হচ্ছে আসানসোল ক্রিকেট লিগ। সাধারণতন্ত্র দিবসে বিজয়ী ও রার্নাসআপ দলকে পুরস্কৃত করবেন খোদ জেলাশাসক। তারপর করা হবে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।



