Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

 ‘দুর্গ’ সিতাইয়ে কং-বাম আটকে গেল নয় ও তিন হাজারের ঘরে  ​​​​​​​

 ‘দুর্গ’ সিতাইয়ে কং-বাম আটকে গেল নয় ও তিন হাজারের ঘরে
 ​​​​​​​
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: একদা দুর্গ বলে পরিচিত সিতাইয়ে উপ নির্বাচনে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লক। দুই দলই আটকে গেল মাত্র নয় হাজার ও তিন হাজারের ঘরে। সিতাইয়ে দীর্ঘসময় কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লক ধারাবাহিকভাবে জিতে এসেছে। সেই ছন্দে ছেদ টেনেছিলেন বর্তমান সাংসদ তৃণমূলের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। নিজে ২০২১ সালের নির্বাচনে সিতাই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে দল তাঁকে লোকসভায় প্রার্থী করায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে হারিয়ে তিনি জায়ান্ট কিলার তকমা পান। তাঁর আসন খালি হওয়াতেই সিতাইয়ে এই উপ নির্বাচন। ফল ঘোষণা হতেই দেখা গিয়েছে একদা সিতাইয়ে কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৯১৭৭ ভোট ও ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী মাত্র তিন হাজার ৩১৯টি।  এতো কমভোট পাওয়ার পিছনে দুই দলই শাসক দলের বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোট করানোর অভিযোগ করেছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সভাপতি দীপক সরকার বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়নি। বাম ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। ফলে ভোট কম পড়েছে। আমাদের কিছু ভোট অবশ্য বেড়েছে। এনিয়ে পর্যালোচনা করব।
Advertisement
সিতাই বিধানসভায় ১৯৬৭-’৭২ সাল পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন কংগ্রেসের মহম্মদ ফজলে করিম। ১৯৭৭-’৯১ পর্যন্ত ফরওয়ার্ড ব্লকের দীপক সেনগুপ্ত। ১৯৯৬ সালে ফের ফজলে জয়ী হন। ২০০১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের নৃপেন্দ্রনাথ রায়, ২০০৬ সালে ফজলে হক, ২০১১ সালে কংগ্রেসের কেশবচন্দ্র রায় জয়ী হন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে সিতাই কেন্দ্রটি বাম-কংগ্রেসের ঘাঁটি ছিল। সেখানেই ২০২১ সালে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন জগদীশচন্দ্র। তারপর থেকেই এখানে বাম-কংগ্রেসের সংগঠন আলগা হতে শুরু করে। জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, বাম-কংগ্রেস থেকে মানুষ সরে গিয়েছেন। ওখানে এক বামনেতা তো বিজেপির কাছে ভোট বিক্রি করেন। নাহলে যেখানে কংগ্রেস নয় হাজারের বেশি ভোট পায়, বামেদের এই অবস্থা!
জগদীশচন্দ্রের কথায়, বাম-কংগ্রেস ডাইনোসরের মতো বিলুপ্তির পথে। বিজেপিরও একই হাল।
সম্পর্কিত সংবাদ