নয়াদিল্লি: এ যেন বাস্তবের ‘সবার উপরে’। দীর্ঘ ২৪ বছর জেলের ঘানি টেনেছেন। ২০০১ সালে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ওই কিশোরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আদালত। ঘটনার সময় তিনি যে নাবালক ছিলেন, সেই দাবি মানেনি কেউ। নিম্ন আদালত, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট— কেউ না। এমনকী রাজ্যপালের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনও খারিজ হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি মৃত্যুদণ্ড বদলে ৬০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এরপরেও দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গিয়েছেন কিশোরের মা। দীর্ঘ ২৪ বছরের লড়াই অবশেষে সফল। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিয়েছে নিজেদের ভুল। বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিাচরপতি অরবিন্দ কুমার জানিয়েছেন, ‘বড় অন্যায় হয়ে গিয়েছে।’ তাই সেদিনের ১৪ বছরের কিশোর আজকের ৩৮-এর যুবককে অবিলম্বে মিরাট জেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
২০০১ সালে একটি খুনের মামলায় ১৪ বছরের ওই কিশোরকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। নিজেকে নাবালক প্রমাণে ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের তথ্য জমা দিয়েছিল কিশোর। তবে সেই নথি না মেনে মৃত্যদণ্ড বহাল রাখে নিম্ন আদালত। নাবালক হওয়ার বিষয়টি মানেনি হাইকোর্টও। নাবালকত্ব প্রমাণে স্কুলের বয়সের শংসাপত্রও দাখিল করেছিল সে। সেসব উড়িয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্টও। মৃত্যুর প্রহর গুণতে গুণতে শেষ চেষ্টা হিসেবে উত্তরাখণ্ডের রাজ্যপালের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল সে। সেখানেও খারিজ হয়ে যায় আর্জি। কিছুটা সুরাহা মেলে ২০১২ সালে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে সে। তখন ৬০ বছর পর্যন্ত হাজতবাসের শর্তে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন রাষ্ট্রপতি। তবে স্থানীয় সমাজকর্মীদের সহায়তায় মামলা চালিয়ে যান তার মা। রাষ্ট্রপতির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আবার হাইকোর্টে যান কিশোরের মা। সেখানে আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর আবার সুপ্রিম কোর্টে। এবার তাঁর বয়সের প্রমাণ হিসেবে শারীরিক পরীক্ষা (অসিফিকেশন) করার নির্দেশ দেয় আদালত। মিরাট জেলে গিয়ে সেই পরীক্ষা করেন বিশেষজ্ঞরা। জানা যায়, খুনের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছরের আশপাশে। তারপরই ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।



