Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকাকে বিয়ে করে হিমাচলে ঘর বেঁধেছিল প্রেমিক, উদ্ধার করল পুলিস

নাবালিকাকে বিয়ে করে হিমাচলে ঘর বেঁধেছিল প্রেমিক, উদ্ধার করল পুলিস
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাড়ির লোকজন সম্পর্ক মানতে চায়নি। তাই নাবালিকা প্রেমিকাকে নিয়ে কাটোয়া থেকে সোজা হিমাচল প্রদেশে পাড়ি দিয়েছিল যুবক। সেখানেই তারা ঘর বেঁধেছিল। যুবক একটি দোকানে কাজ করত। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিস হিমাচল প্রদেশের মানপুর থানা এলাকা থেকে দু’জনকে উদ্ধার করে কাটোয়ায় এনেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার বাসিন্দা ওই নাবালিকা ২৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজে পায়নি। ২৫ তারিখ তাঁরা কাটোয়া থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। পুলিস খোঁজ শুরু করে। তারা জানতে পারে শহরের দু’নম্বর ওয়ার্ডের হাজরাপুর কলোনির এক যুবককেও পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্তকারীরা সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারে, ওই যুবক নিখোঁজ নাবালিকাকে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বেশ কিছুদিন দু’জনেই মোবাইল বন্ধ রেখেছিল। পরে যুবক মোবাইল অন করে। টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে পুলিস জানতে পারে, সে হিমাচল প্রদেশে রয়েছে। তারপরই কাটোয়া থানার পুলিসের একটি দল হিমাচল প্রদেশে রওনা দেয়। সেখান থেকে দু’জনকেই উদ্ধার করে আনা হয়। ওই যুবক পুলিসকে জানিয়েছে, এক পরিচিতর সাহায্য নিয়েই সে হিমাচল প্রদেশে গিয়েছিল। প্রথমে সেখানে একটি আপেলের বাগানে কাজ করত। পরে একটি দোকানে কাজ শুরু করে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পরই পুলিস তদন্তে নামে। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় নাবালিকা বিয়ের প্রবণতা বেড়েছে। কেতুগ্রাম, ভাতার, আউশগ্রাম এলাকায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এদের অনেকেরই ধারণা, প্রেমিকের হাত ধরে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিলে পুলিস কিছু করতে পারবে না। সেই কারণেই সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নাবালিকা মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিস দেরিতে হলেও তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এক আধিকারিক বলেন, নাবালিকা বিয়ে বন্ধ করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। কেউ নাবালিকাদের ফুসলিয়ে নিয়ে গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। ভিনরাজ্যে গেলেও তারা রক্ষা পাবে না। অন্য রাজ্যে গেলে উদ্ধার করতে কিছুদিন সময় লাগবে। কিন্তু পাকড়াও হবেই। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নাবালিকাদের মধ্যে গর্ভবতী হওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। জেলার মধ্যে কেতুগ্রামে এই হার বেশি। এখানে প্রায় ২৭ শতাংশ নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে। অনেকে প্রসব করাতে গিয়ে মারাও গিয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ