সংবাদদাতা, লালবাগ: মঙ্গলবার নবগ্রামের বসিয়া বিলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মকর স্নান করলেন। নবগ্রাম, পলশন্ডা, পাঁচগ্রাম, মোড়গ্রাম, জয়পুর, সাগরদিঘি সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার পাশাপাশি বীরভূম ও ঝাড়খণ্ড থেকেও প্রচুর মানুষ পুণ্যস্নানের জন্য এদিন নবগ্রামের বসিয়া বিলে এসেছিলেন। ঠান্ডার কামড়কে উপেক্ষা করে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানের জন্য সকাল থেকে বিলের একাধিক ঘাটে মানুষের ঢল নামে। দিনভর হাজার হাজার পুণার্থীকে এক সঙ্গে স্নান করতে দেখা যায়। স্নান চলাকালীন কোনওপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিল এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়েছিল। স্নান সেরে ঘাটের পাশে বসিয়া মাতার মন্দিরে (কালীমাতা) অনেকেই পুজো দেন। এদিকে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণ সংলগ্ন এলাকায় একদিনের মেলা বসেছিল। এছাড়া বিলের দুই পাড়ে একাধিক দল পিকনিকে মেতে ওঠে। জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জে ভাগীরথীর দুই পাড়ের ঘাটেও প্রচুর মানুষ এদিন মকর স্নান করেন।
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলায় নদনদীর পাশাপাশি যে কয়েকটি বিল কয়েক দশক ধরে স্থানীয় মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম নবগ্রামের বসিয়াবিল। বিলের পাড়ে রয়েছে বসিয়া মাতার মন্দির। মকর সংক্রান্তির স্নান করতে সাঁইথিয়া থেকে সপরিবারে এসেছিলেন গণেশ হালদার। তিনি বলেন, বসিয়ার দেবী খুব জাগ্রত। প্রতি বছর এইদিনে স্নান করতে আসি। পলশন্ডার বাসিন্দা মিনতি চক্রবর্তী বলেন, প্রতি বছর এইদিনে বসিয়ায় স্নান করতে আসি। আজকের দিনে এই বিলে স্নান করলে মনটা পবিত্র হয়ে ওঠে। তৃণমূলের নবগ্রাম ব্লক সভাপতি মহম্মদ এনায়েততুল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে বসিয়া বিলে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান হয়ে আসছে। এদিন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মকর স্নান করেন। হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ এদিন স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। নবগ্রাম থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ সুষ্ঠুভাবে মকর স্নান করেছেন। স্নান চলাকালীন বিলে নৌকা নিয়ে নজরদারি চালানো হয়।
অন্যদিকে এদিন পৌষ মাসের শেষ মঙ্গলবারে কিরীটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ঢল নামে। ভক্তরা লম্বা লাইনে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে মায়ের উদ্দেশ্যে অঞ্জলি ও পুজো দেন। এদিন মাকে বেনারসী ও সোনার গহনায় সাজিয়ে রাজরাজেশ্বরী রূপে ভক্তদের কাছে হাজির করা হয়। মেলাতেও প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। দুপুরের পর মেলায় পা রাখা রীতিমতো দায় হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে এদিন পৌষ মাসের শেষ মঙ্গলবারে কিরীটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে ভক্তদের ঢল নামে। ভক্তরা লম্বা লাইনে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে মায়ের উদ্দেশ্যে অঞ্জলি ও পুজো দেন। এদিন মাকে বেনারসী ও সোনার গহনায় সাজিয়ে রাজরাজেশ্বরী রূপে ভক্তদের কাছে হাজির করা হয়। মেলাতেও প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। দুপুরের পর মেলায় পা রাখা রীতিমতো দায় হয়ে ওঠে।



