Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপের বেশিরভাগ হেরিটেজ স্নানঘাটেই আবর্জনা জমে দূষণ

নবদ্বীপের বেশিরভাগ হেরিটেজ স্নানঘাটেই আবর্জনা জমে দূষণ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শ্রীচৈতন্যভূমি নবদ্বীপে গঙ্গাস্নান করে পুণ্য অর্জনে দেশবিদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন। হেরিটেজ তালিকা ঘোষণার পর নবদ্বীপে গঙ্গার নানা স্নানঘাট নতুন করে সংস্কার হয়েছিল। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ প্রায় রোজই ওই সমস্ত হেরিটেজ ঘাটের পাশে আবর্জনা ফেলছেন। এতে ঘাটের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। পুণ্যার্থীদের‌ দুর্গন্ধে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি আবর্জনার পাশে স্নান করে তাঁদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘাটগুলি সাফাইয়ের দাবি উঠেছে।
Advertisement
পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা অবশ্য বলেন, পুরসভার তরফে বিভিন্ন স্নানঘাটে সচেতনতামূলক বোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে নাগরিক সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়।
মন্দিরনগরী নবদ্বীপের হেরিটেজ স্বীকৃত রানিরঘাট, পোড়াঘাট, শ্রীবাস অঙ্গনঘাট সহ বেশিরভাগ ঘাটেই প্লাস্টিক সহ নানা বর্জ্য ফেলা চলছে। বেশিরভাগ ঘাটেই একই ছবি দেখা যাওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থেকে নবদ্বীপে সপরিবারে গঙ্গাস্নানে এসেছিলেন দীপালি রুইদাস। তিনি বলেন, স্নানঘাটের পাশেই আবর্জনা পড়ে রয়েছে। এটা হেরিটেজ শহরে মানায় না।
রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্প থেকে এসেছিলেন প্রবীর মণ্ডল। তিনি বলেন, স্নানঘাটের পাশের আবর্জনা নদীতীরের সুন্দর পরিবেশকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। হেরিটেজ স্বীকৃতির পরও এই অবস্থা থাকলে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। চাকদহ কলেজের বিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রিম্পা কর্মকার বলেন, সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। যাঁরা আবর্জনা ফেলছেন, তাঁদেরও একটু ভাবা উচিত।
পোড়াঘাটে গঙ্গার ধারে পৌরহিত্য করেন কৃষ্ণ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এলাকার কিছু মানুষই এই আবর্জনা ফেলছেন। মানা করতে করতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে যায়। বাইরে থেকে যাঁরা এখানে স্নান করতে আসেন, তাঁরা এই দশা দেখে বাজে মন্তব্য করেন। আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পুরসভা তো আবর্জনা না ফেলার জন্য পোস্টার লাগিয়েছিল। সেগুলোও ছিঁড়ে ফেলেছে। গঙ্গার ধার একটা পবিত্র জায়গা। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পুণ্যস্নানে আসেন। আমাদের সবাইকে এবিষয়ে সচেতন হতে হবে।
পোড়াঘাটের এক বাসিন্দা বলেন, পুরসভার তরফে ঘাটের কাছে বর্জ্য ফেলার ড্রামের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হতো। তাহলে প্রতিদিন সাফাইকর্মীরা সেই আবর্জনা অন্যত্র নিয়ে যেত। ঘাট অনেকটাই আবর্জনামুক্ত থাকত। প্রতিটি ঘাটে নজরদারি একটু বাড়ানো দরকার। যারা ঘাট নোংরা করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আর্থিক জরিমানা করলে আর আবর্জনা ফেলার সাহস পাবে না।  নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ