


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই শহরে ‘ভূতের বাড়ি’ কোথায়? কোন জমিদারবাড়ি ভাঙাচোরা অবস্থায় দাঁড়িয়ে? কোথায় দেখা যাবে গাড়িবারান্দা সহ পুরানো বাড়ি? এরকম সব জায়গা দর্শনার্থীদের ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য নানা ধরনের ‘হেরিটেজ ওয়াক’ হয়েই থাকে। কিন্তু কলকাতা তো শুধু ইট-কাঠ-পাথরের শহর নয়! এ শহরের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি। সেই খবর রাখে ক’জন! তবে একেবারেই কেউ রাখেন না, তাও নয়! এমনই তিন তরুণ পরিকল্পনা করেছেন, বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির ধারক-বাহক যাঁরা, কলকাতায় তাঁদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি উৎসাহীদের ঘুরিয়ে দেখাবেন। স্থানগুলির ইতিহাস বলে দেবেন তাঁরা। ১ মার্চ বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য স্থানগুলি ঘোরাবেন তাঁরা। আগামী দিনে আরও পরিকল্পনা রয়েছে। তা এখনই খোলসা করতে চাইছেন না তরুণ উদ্যোক্তারা।
তাঁরা ‘কলকাতা ফুটনোটস’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছেন। কয়েকদিন আগে কলকাতার অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের নিয়ে একটি ‘হেরিটেজ ওয়াক’ আয়োজন করেছিলেন। বো-বারাক তো বটেই, তার বাইরেও অ্যাংলোদের দিনযাপনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল। আগামী ১ মার্চ সকাল ৯টায় উৎসাহীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা বেরিয়ে পড়বেন। এবারের ওয়াকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিদ্রোহীর কলকাতা’। নজরুলের জীবন ও সৃষ্টিকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস, অনেক না বলা গল্প শোনাবেন অর্ক দেব। সার্বিক এই উদ্যোগে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পৃথ্বী বসু ও প্রিয়ক মিত্র। পৃথ্বী বলছিলেন, ‘এবার আমরা বিদ্রোহী কবি নজরুলের কলকাতাকে তুলে ধরব। তিনি কলকাতা শহরে আসেন ১৯২১ সাল নাগাদ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় থেকেছেন। যে বাড়িতে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার কার্যালয়, যে বাড়িতে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখা হয়েছিল— এই জায়গাগুলি আমরা ঘুরিয়ে দেখাব। বাড়িগুলির গল্প, কখন-কোথায় থাকতেন, সবটাই তুলে ধরা হবে।’ তালতলা-কলেজ স্ট্রিট এলাকা থেকে এই ‘ওয়াক’ শুরু হবে। পৃথ্বী আরও বলেন, ‘এই এলাকাতেই তো নজরুলের আস্তানা ছিল। এখান থেকে শুরু করে টালায় গিয়ে ওয়াক শেষ হবে। আসলে শহরের অনেকগুলি বাড়িতেই নজরুল কোনো না কোনো সময় থেকেছেন। কোথাও দু’সপ্তাহ, কোথাও আবার তিন বছর। এরকম সব বাড়ির ঠিকানার তালিকা তৈরি করেছি। সব জায়গায় যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। মোটামুটি ১২টি বাড়ি ঠিক হয়েছে।’
এই উদ্যোগ আসলে একটা নিরন্তর প্রক্রিয়া বলেই জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। নজরুল দিয়ে শুরু হয়ে আগামীতে তাঁরা এরকম বিষয়ের উপর আরও ‘ওয়াক’ আয়োজন করবেন।