নিউ চণ্ডীগড়: ২৮ বলে ৯৭! আর একটা ছক্কা বা চার মারলেই আইপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক হওয়ার হাতছানি বৈভব সূর্যবংশীর সামনে। ক্রিস গেইলের ৩০ বলে সেঞ্চুরির নজির ভাঙা তখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এমন সময়েই অ্যান্টি-ক্ল্যাইম্যাক্স। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চাওয়া স্টেডিয়ামকে হতাশ করে আউট রাজস্থান রয়্যালসের বাঁ-হাতি ওপেনার। প্রফুল্ল হিঞ্জের শর্ট বলে ১৫ বছর বয়সির আপার কাট বাউন্ডারি লাইনে জমা পড়ল স্মরণের হাতে। গোটা স্টেডিয়ামে তখন পিন ড্রপ সাইলেন্স!
বিস্ময় বালক নিজেও বিস্মিত। ঠোঁট থেকে চায়ের কাপের দূরত্ব থেকেই গেল। ইতিহাস গড়া হল না। আপশোসে, হতাশায় শূন্যে তাকিয়ে ক্রিজে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়েই থাকল সে। সান্ত্বনা দিতে দৌড়ে এলেন বিপক্ষের অভিষেক শর্মা। কিন্তু শরীর যেন আর চলছে না। গুটি গুটি পায়ে গোটা গ্যালারির উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মধ্যেই ডাগ আউটে ফিরল ‘বেবি বস’। পরে হতাশার সঙ্গে বলল, ‘ফিল্ডারের দিকে তাকিয়ে শটটা খেলেছিলাম। সেজন্যই টাইমিংয়ের ভুলচুক হল। থার্ডম্যানের দিকে মারতে গেলে সহজেই মাঠ পার করে দিতাম। কিন্তু সোজা মারতে চেষ্টা করেছিলাম। সেজন্যই ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক হল না।’
আইপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরি অধরা থাকলেও, ছক্কার নিরিখে এদিন গেইলকে টপকে গেল সূর্যবংশী। এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডের মালিক এখন সে। এদিন ১২টা ওভার বাউন্ডারির পর তাঁর ছক্কার সংখ্যা ৬৫। ২০১২ সালে গেইল মেরেছিলেন ৫৯ ছক্কা। সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে এই ৯৭ রানের সুবাদে কমলা টুপিও সাই সুদর্শনের থেকে ছিনিয়ে নিল সে। ১৫ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৬৮০। পরিসংখ্যান, রেকর্ডের থেকেও বড়ো, বুধবার সূর্যবংশীর এই ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জিতে নিয়েছে। প্রাক্তন অজি পেসার ব্রেট লি সামাজিক মাধ্যমে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে সেজন্যই পোস্ট করেছেন, ‘বৈভব! ইউ ফ্রিক! ওকে আটাকানোর সবচেয়ে ভালো উপায় প্রার্থনা করা!’