সুকান্ত বসু, কলকাতা: কলাবউই হল ‘নবপত্রিকা’। শাস্ত্রমতে, কলাবউ দেবী দুর্গার একটি বৃক্ষরূপ। সপ্তমীর সকালে গঙ্গা বা জলাশয়ে কলাবউকে মহাস্নানের পর তা মণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপর শুরু হয় দশভুজার মূল আরাধনা। শাস্ত্রবিদদের বলেন, ‘দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে দেবীর সঙ্গে পূজিতা হন কলাবউও। কলাগাছের সঙ্গে বাঁধা হয় আরও আটটি গাছ। সব মিলিয়ে ন’টি গাছের মিলিত রূপ।
সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ ডঃ জয়ন্ত কুশারী বলেন, ‘ন’টি গাছ এখানে ন’জন দেবীর প্রতীক হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এই গাছগুলি হল কলা, কচু, হলুদ, বেল, ডালিম, জয়ন্তী, অশোক, মান ও ধান। কলাগাছ ব্রাহ্মণী দেবীর, হলুদ গাছ দেবী দুর্গার, বেলগাছ শিবের, ডালিম গাছ দেবী রক্তদন্তিকার, মান কচুর গাছ দেবী চামুণ্ডার, অশোক গাছ দেবী শোকরহিতার এবং জয়ন্তী কুমারী দেবীর প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। ধানগাছ হল দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক এবং সাধারণ কচুগাছকে দেবী কালিকার প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হয়।’ তাঁর কথায়, ‘পাট ও সাদা অপরাজিতার লতার সঙ্গে কলাবউকে হলুদ সুতো দিয়ে বাঁধা হয়। সঙ্গে থাকে জোড়া বেল।’ গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকার প্রধান রাজগণক পণ্ডিত অচিন্ত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘জলাশয়ে কলাবউকে ডুবিয়ে স্নান করানোর পর পাড়ে তুলে আরও আট রকম জল দিয়ে মহাস্নান করানো হয়। আটটি কলসে থাকে সেই জল। তার মধ্যে থাকে গঙ্গার জল, বৃষ্টির জল, সমুদ্রের জল, সরস্বতী নদীর জল, পদ্মফুলের শিশিরবিন্দু, ঝর্ণার জল, যে কোনো পবিত্র স্থানের জল ও সাধারণ নদী বা পুকুরের জল।’ পুজো মণ্ডপে কলাবউ বা নবপত্রিকা স্থাপনের পর দর্পণের মাধ্যমে মা দুর্গাকে স্নান করানো হয়। স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, ‘কলাবউ হলেন শস্যের প্রতীক। তাই একে শস্যদায়িনী হিসাবে পুজো করা হয়ে থাকে। অনেকে কলাবউকে নবপত্রিকা বাসিনী নবদুর্গাও বলে থাকেন।’ তাঁর কথায়, ‘প্রথা মেনে কলাবউকে লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে মাতৃদেবী হিসাবে পুজো করা হয়। তিনি মা দুর্গারই এক মহারূপ। তাঁকে স্থাপন করা গণেশের পাশে। দশমীর দিন মা দুর্গাকে নিরঞ্জনের সময় কলাবউকেও মহাসমারোহে বিসর্জন দেওয়া হয়।’