নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোটো গলি হোক বা বড়ো রাস্তা। বিদ্যুতের তার ঝুলতে দেখা যায় অহরহ। যেখানে থাকে প্রতিমুহূর্তে বিপদের হাতছানি। দুর্ঘটনা এড়াতে এই অবস্থার পরিবর্তন করে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রাজ্যের। ঘটনাচক্রে বুধবার রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের উদ্যোগে চন্দননগরে এই ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। আগামীদিনে কলকাতা ও অন্যান্য পুরসভাগুলিতেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনার কথার উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। এই ব্যাপারে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন কলকাতার পোস্তায় জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হুগলি ও নদীয়া জেলার বেশকিছু জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার পুজো কমিটির উদ্যোক্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন হয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। পোস্তার ওই মঞ্চ থেকেই দার্জিলিংয়ে সরস মেলা এবং চন্দননগরে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে চন্দননগরে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তায় ৪৫০ কিলোমিটার ওভারহেড তার নামিয়ে এবং ৫০০টি ইলেকট্রিক পোল সরিয়ে মাটির নীচ দিয়ে সমস্ত বৈদ্যুতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এতে রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। আগে জগদ্ধাত্রী পুজোয় বিসর্জনের শোভাযাত্রার জন্য সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ রাখা হতো। এবছর থেকে সেই সমস্যার সম্মুখীন হবেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। এই সূত্রেই পোস্তার অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ববি (ফিরহাদ), আমার মনে হয়, পুরো কলকাতা এবং পুরসভাগুলিতে এই ব্যবস্থা করা উচিত। এত তার ঝুলতে থাকে রাস্তায়! আমি অনেকদিন ধরে বলছি, একটি বৈঠক ডেকে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেবল-তার পাঠাতে হবে মাটির তলা দিয়ে। একটি পাইপের মধ্যেই সব ঢুকে যাবে। এটা নিয়ে একটি পরিকল্পনা করেছি।’ওয়াকিবহাল মহলের মত, আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল থাকলে তাতে অনেকটাই সমস্যার সমাধান ও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
এদিকে বড়বাজার ও পোস্তা এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন করেছেন, প্লাস্টিকের জিনিসপত্র এক জায়গায় মজুত করে রেখে দেবেন না। আগুন ধরে গেলে ব্যবসার ক্ষতি হবে। তাই যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এছাড়া বিপদজ্জনক বাড়িগুলির জায়গায় নতুন নির্মাণের পর পুরোনো বাসিন্দাদের স্থানান্তরিত করার প্রসঙ্গটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, পোস্তার মতো এলাকাকে ‘মিনি ভারত’ বলা হয়ে থাকে। সেখানে সহাবস্থানের ভিত্তিতেই ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। তাঁদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, সবাই একসঙ্গে থাকা, এটাই দেশের পরম্পরা। পাঁচটি আঙুল একত্র করেই একমুঠো হয়। ব্যবসায়ী সীতানাথ ঘোষের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে মানুষের পাশে আছেন, তাতে ২০২৬ সালে তাঁর প্রতি বাংলার মানুষের সমর্থন ২০২১ সালকেও ছাপিয়ে যেতে চলেছে।