


বেলজিয়াম, ১৬ জুলাই: রাশিয়া চরম শত্রু! এমনটাই বারবার বলতে চাইছে আমেরিকা। এবার আরও একধাপ এগিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ন্যাটো। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করলে ফল ভুগতে হবে। নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে। ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক জরিমানাও চাপানো হতে পারে রাশিয়ার বন্ধু দেশগুলির উপর। এমনটাই জানালেন ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট্টে। ভারত, চীন ও ব্রাজিলকে সাবধান করে দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার সঙ্গে কোনও ব্যবসাই করা চলবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ন্যাটো প্রধান।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আপনি যদি চীনের প্রেসিডেন্ট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কিংবা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন, এবং নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যান। তাদের থেকে তেল ও গ্যাস কিনতে থাকেন, তা হলে কী হতে পারে আপনি জানেন! মস্কোয় বসে থাকা ব্যক্তি যদি শান্তি আলোচনাকে গুরুত্ব সহকারে না নেন, তা হলে আপনাদের উপরে আমি ১০০ শতাংশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব। বেজিং কিংবা দিল্লিতে থাকেন কিংবা আপনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন। কারণ আমাদের পদক্ষেপে আপনাদের বড় ক্ষতি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের বন্ধু ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করুন। তাঁকে বলুন যেন শান্তি চুক্তিকে গুরত্ব দেয় ও তাতে রাজি হয়। নইলে চীন, ব্রাজিল ও ভারতের উপর বড়সড় পদক্ষেপ নেব আমরা।’ আর এরপরেই তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। ভারত, চীন ও ব্রাজিলের উপর এইভাবে আদৌ চাপ বাড়াতে পারে ন্যাটো? রাশিয়ার বিষয়ে অন্য দেশ কেন নাক গলাবে? সেই প্রশ্নও করেছেন অনেকে। ন্যাটো প্রধানের এই বক্তব্যের পাল্টা এখনও পর্যন্ত কিছু দেয়নি নয়াদিল্লি কিংবা বেজিং। ভারত এই মুহূর্তে মস্কোর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেল প্রচুর পরিমাণে কেনে। ন্যাটোর পদক্ষেপে তার উপর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পুতিনকে দমাতে ঘুরপথে চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। তাই রাশিয়ার বন্ধু দেশ হিসেবে পরিচিত ব্রাজিল, চীন ও ভারতকে হুমকি দিচ্ছে ন্যাটো। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপর হামলা চালাতে ইউক্রেনকে সবরকম সাহায্য করছে আমেরিকা। মস্কোয় হামলা চালানোর ব্যাপারে জেলেনস্কিকে আর্জি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘মস্কোতে বড়সড় হামলা চালালে পুতিনের বড় ক্ষতি হবে।’ তবে ন্যাটোর এই হুমকি ভালো চোখে দেখছে না বেজিং। এমনটাই জানা গিয়েছে সূত্র মারফত।