সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: আর মাত্র দু’দিনের অপেক্ষা। দেশজুড়ে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশপ্রেমের আবেগে সেজে উঠছে নদীয়ার সদর শহর কৃষ্ণনগরও। শহরের বিভিন্ন বাজারে এখন চোখে পড়ছে জাতীয় পতাকা কেনার ভিড়। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন মাপের জাতীয় পতাকা কিনতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। ফলে পতাকা বিক্রেতাদের ব্যস্ততা বেড়েছে চোখে পড়ার মত।
পতাকা বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিবারই স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতীয় পতাকার চাহিদা বাড়ে। তবে এবছর সেই চাহিদা যেন আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে বাড়িতে বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উৎসাহও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই সরকারি উদ্যোগে কৃষ্ণনগর সহ বিভিন্ন এলাকায় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রচার এবং পদযাত্রা হচ্ছে। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে এই ধরনের কর্মসূচিতে প্রশাসনের আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ফলে স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে উৎসাহ আরও বেড়েছে। সেই প্রভাব পড়ছে বাজারেও। স্বাধীনতা দিবসের দিন নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা বাড়ির সামনে তিরঙ্গা ওড়ানোর জন্য অনেকেই আগে থেকেই পতাকা কিনে রাখছেন।
প্রদীপ মজুমদার নামে এক পতাকা বিক্রেতার কথায়, দোকানে বিভিন্ন মাপের জাতীয় পতাকা রাখা হয়েছে। বড় পতাকার পাশাপাশি ছোট আকারের পতাকার চাহিদাও যথেষ্ট রয়েছে। সকলের কথা মাথায় রেখে ন্যূনতম ১০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের জাতীয় পতাকা কিনতে পারছেন ক্রেতারা। শুধু কাপড়ের পতাকাই নয়, কাগজের ছোট ছোট জাতীয় পতাকাও এবার বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই বাড়ি, দোকান কিংবা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানের জায়গায় পতাকার চেন তৈরি করে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। সেই কারণে একসঙ্গে বহু সংখ্যক ছোট কাগজের পতাকা কিনছেন ক্রেতারা।
আরও এক বিক্রেতা সত্য সরকার বলেন, এবার মানুষের মধ্যে পতাকা কেনা নিয়ে বেশ ভালো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতা দিবস যত এগিয়ে আসছে, চাহিদা যেন ততই বাড়ছে। এর জন্য এবার প্রশাসনের অনেক ভূমিকা আছে। বেশ কিছুদিন ধরেই নানা জায়গায় পতাকা নিয়ে হর ঘর তিরঙ্গা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন হয়েছে। যা অনেকের মধ্যেই দেশপ্রেম জাগিয়েছে।
শহরের বাজারে পতাকার চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্বাধীনতা দিবসের আবেগ। ছোটদের পাশাপাশি বড়রাও নিজেদের বাড়িতে তিরঙ্গা ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে স্বাধীনতা দিবসের দু’দিন আগেই কৃষ্ণনগরের বাজারে যেন উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।