Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্পত্তি বাঁচাতেই ‘ভাল তৃণমূলে’ নরেন! শিল্পাঞ্চলে জোর চর্চা

নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সম্পত্তি রক্ষায় কি ‘ভাল তৃণমূল’ হতে চান? বিস্তারিত পড়ুন।

সম্পত্তি বাঁচাতেই ‘ভাল তৃণমূলে’ নরেন!  শিল্পাঞ্চলে জোর চর্চা
  • ২১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল:তিনিই ছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সর্বেসর্বা। জেলা সভাপতি থাকাকালীন সেই নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নির্দেশেই নাকি চলত দল ও প্রশাসন! দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে বিভিন্ন পদ সামলেছেন। তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তাঁর ও পরিবারের সম্পত্তি। যার বেশিরভাগটাই তাঁর স্ত্রী নাকি বিভিন্ন আত্মীয়দের থেকে ‘দানপত্রে’র মাধ্যমে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বহু টাকার দোকান ও জমিও। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর দুর্নীতিতে জড়িত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে পুলিশি অ্যাকশন। সম্প্রতি নরেন্দ্রনাথবাবু তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদে ইস্তফা দিয়েছেন। তারপরই তাঁকে দেখা গিয়েছে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাতেই শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ট্রোলিং। কেউ কেউ বলছেন, বিপুল সম্পত্তি বাঁচাতেই কি এবার ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার পথে নরেন? 

Advertisement

আসানসোলের পরিচিত সমাজকর্মী বিশ্বনাথ মিত্র। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘দুনীর্তির দায়ে গ্রেপ্তারের ভয়ে পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল নেতারা ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে যাবে? নরেন্দ্রনাথকে দিয়েই কি তা শুরু হবে?’। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহিলা জেলা সভানেত্রী আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘কে যে কখন সম্পদ আর পিঠ বাঁচাতে হঠাৎ গিরগিটির মতো রূপ দল পালটে নিচ্ছে, তা কেউ বুঝতে পারছে না’। 
নীচুতলার তৃণমূল কর্মীদের কথায়, তৃণমূলের সুসময়ে নরেন ছিলেন দলের জেলা সভাপতি, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক। এছাড়াও ছিলেন মাইন বোর্ড অব হেলথের চেয়ারম্যান, জেলার আরটিএ বোর্ড মেম্বার। ক্ষমতা প্রভাব পতিপত্তি বাড়ার পাশাপাশি আচার আচরণে বৃহৎ পরিবর্তন আসে নরেনের। জেলা সভাপতি ঘুরতেন একাধিক দামী গাড়ির ‘কনভয়’ নিয়ে। দুর্গাপুরে ডিএসপির বিশাল কোয়ার্টার নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন বিলাসবহুল পার্টি অফিস। তাঁর বিপুল সম্পদের কিছুটা ধরা পড়েছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে দেওয়া হলফনামায়। দেখা গিয়েছে, উপহার বা দানপত্রের মাধ্য঩মে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হয়েছেন তাঁর স্ত্রী অনুভা চক্রবর্তী। অণ্ডাল থানার উখরায় ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে তিনটি বাণিজ্যিক স্টল উপহার পান তিনি। যাঁর প্রতিটির বর্তমান বাজার মূল্য ৫২ লক্ষ টাকা করে। হলফনামায় স্ত্রীর নামে ১৪টি চাষের জমি রয়েছে। তার মধ্যে দু’টি উপহার বা দান হিসাবে পাওয়া। বাকি সাতটি ডিড অব সেটেলমেন্ট করে পাওয়া। যেগুলির বাজার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। যদিও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের কোনো উত্তর দেননি। এই বিষয়ে তাঁর স্ত্রী অনুভা চক্রবর্তীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘নো কমেন্টস’। পাণ্ডবেশ্বর বিজেপি কনভেনর বুধন ঘোষ বলেন, নরেন্দ্রনাথ পাণ্ডবেশ্বরে যা করেছেন, তাঁর ক্ষমা নেই। যারা অন্যায় করেছে তাদের প্রত্যেককে শাস্তি পেতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ