Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রাম: কালীঘাট ও ঋতপন্থী তৃণমূলের মনোনয়ন

বুধবার শেষদিনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা করলেন।

নন্দীগ্রাম: কালীঘাট ও ঋতপন্থী তৃণমূলের মনোনয়ন
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বুধবার শেষদিনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা করলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে দুই প্রার্থীর সঙ্গে নন্দীগ্রামের পরিচিত কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, দুই শিবিরের প্রার্থীরা ভোটে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করে ফর্ম-বি জমা করেছেন। তাই আজ, ১৭ তারিখ স্ক্রুটিনিতে কী হয়, সেটাই দেখার। বুধবার সকালে হলদিয়া মহকুমা শাসকের অফিসে রিটার্নিং অফিসারের কাছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন জমা করেন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন রামনগরের প্রাক্তন বিধায়ক বর্ষীয়ান অখিল গিরি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে নন্দীগ্রামের প্রথম সারির তৃণমূল নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি। হাতে গোনা কিছু সংখ্যক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে মনোনয়ন পর্ব মিটে যায়।

Advertisement

দুপুর নাগাদ মনোনয়ন জমা দিতে যান ঋত তৃণমূলের প্রার্থী মহম্মদ এতেসামুল হক। তাঁর মনোনয়নে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা মদন মিত্র, প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও খড়্গপুর সদরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার প্রমুখ। কলকাতার বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী এতেসামুল হকের সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের দূর-দূরান্তের সম্পর্ক নেই। যদিও নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে তাঁকেই বাজি ধরেছে ঋত তৃণমূল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঘোষিত ঋত তৃণমূল নেতা সেভাবে কেউই নেই। যে কারণে কলকাতার ওই ব্যবসায়ীকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে, মনোনয়নে নজর টানার ক্ষেত্রে কালীঘাট তৃণমূলকে ছাপিয়েছে ভালো তৃণমূল। কারণ, মদন মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী সহ ঋত শিবিরের একঝাঁক নেতার উপস্থিতি পার্থক্য তৈরি করেছিল। 
এদিন মনোনয়নের পর হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে মদন মিত্র বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের বেইমানির শিকার গোটা রাজ্যের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের মানুষও। বিগত সরকার নন্দীগ্রামকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। তার একটা যোগ্য প্রতিবাদ হিসেবে আমাদের প্রার্থীকে জোড়াফুল প্রতীকে মনোনয়ন জমা করিয়েছি। শেষমেশ জোড়াফুল প্রতীক কে পাবেন, তা ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। বিজেপি নন্দীগ্রামে যথেষ্ঠ শক্তিশালী। কিন্তু, বিরোধীপক্ষ মজবুত হলে তবেই গণতন্ত্র মজবুত হয়। তাই নন্দীগ্রামবাসীকে বলব, উপ নির্বাচনে বিরোধীদের সুযোগ দিন। যেসব জায়গায় বিরোধিতা করার দরকার আমরা বুকের রক্ত দিয়ে হলেও সেই বিরোধিতা করব। আর, অনেকেই আমাদের বিজেপির ‘বি টিম’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন। আমরা বিজেপির ‘বি টিম’ কি না, সেটা এই ভোটে কাজের মধ্য দিয়ে দেখিয়ে দেব।
ঋত তৃণমূলের প্রার্থী এতেসামুল সাহেব বলেন, নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে আমাকে প্রার্থী করায় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানাই। নন্দীগ্রামবাসীর কাছে আমার আবেদন, ৬ অক্টোবর আমাকে ভোট দিন। নন্দীগ্রামের সম্প্রীতি বজায় থাকুক। আমি জোড়াফুল প্রতীক চেয়ে ফর্ম বি জমা করেছি। অপরদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে বলেন, শেষদিনে নমিনেশন জমা করলাম। এই লড়াইয়ে আমি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত ফর্ম বি জমা করেছি। ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক চাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নন্দীগ্রামের নেতাদের না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। যাঁরা দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন না, তাঁদের বিষয়টা আলাদা। তবে, দল আমাকে প্রার্থী করেছে। সাংগঠনিক গোটা বিষয়টি দলই ভেবে রেখেছে।  মনোনয়ন জমা দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ