Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে তপ্ত নন্দীগ্রাম

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের জেলেমারায় তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির লোকজন তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি সহ দু’জনের বাইক ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দেয়।

তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে তপ্ত নন্দীগ্রাম
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের জেলেমারায় তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির লোকজন তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি সহ দু’জনের বাইক ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দেয়। পাল্টা তৃণমূলের লোকজন জড়ো হয়ে বিজেপির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাশেই একটি ডাবের দোকান ছিল। সেখান থেকে কাটারি নিয়ে গোপাল শীট ও শঙ্কর মাইতি নামে দু’ই বিজেপি কর্মীকে কোপানো হয়। এলাকায় রণক্ষেত্র তৈরি হয়। ওই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচজন ও বিজেপি পাঁচজন জখম হন। ঘটনার খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ আধা সেনা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। শম্ভু ঘড়া নামে তৃণমূলের আক্রান্ত এক কর্মীকে হাসপাতালেই আটক করেছে পুলিশ। 

Advertisement

ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জেলেমারা খুবই উত্তেজনাপ্রবণ গ্রাম। ভোটের সময় প্রায়ই এই গ্রামে রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়। এর আগে পঞ্চায়েত এবং লোকসভার সময়ও এখানে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সোমবার সকালে ওই গ্রামে বিজেপির লোকজন বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারে গিয়েছিল। সেখানেই রাস্তায় ভেকুটিয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি রাখহরি ঘড়া ও কর্মী শম্ভু ঘড়ার সঙ্গে বিজেপির কর্মীদের সাক্ষাত হয়। উভয়পক্ষের বাদানুবাদ চলে। তারপর বিজেপির লোকজন ওই দু’জনের বাইক ভাঙচুর ও পুকুরে ফেলে দেয়। রাখহরি ও শম্ভুকে বাঁচাতে আশপাশ এলাকা থেকে তৃণমূল কর্মীরা জড়ো হন। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। হাসুয়া দিয়ে কোপানের জেরে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে।
এদিন আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যান বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল। আক্রান্ত তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রাখহরি ঘড়াকে এনআইএ নোটিস পাঠানোয় তাঁকে একটি প্রাইভেট হসপিটালে ভর্তি করা হয়। অন্য আক্রান্তদের নন্দীগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পর দু’ পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
বিজেপির জেলেমারা বুথের পঞ্চায়েত সদস্য সাগরিকা শীট বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচার করছিলাম। সেই সময় রাখহরি ঘড়া সহ কয়েকজন এসে আমাদের ভোট প্রচারে বাধা দেয়। জেলেমারা গ্রামে বিজেপি ভোট প্রচার করতে পারবে না বলে জানায়। তারপরই আমাদের উপর হামলা চালায়। কাটারি দিয়ে কোপানো হয়। ভোট এলেই এখানে অশান্তি হয়। আমরা থানায় এফআইআর করেছি। পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে আমরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হব।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভেকুটিয়া অঞ্চল সাধারণ সম্পাদক অরূপ গোল বলেন, গত পাঁচ বছর জেলেমারা গ্রামটিকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে বিজেপি। ২০২৪ সালে আমাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়ে ঘরছাড়া হয়েছিলেন। এদিন বিজেপির কর্মীরা আমাদের অঞ্চল সভাপতি সহ দু’ জনের উপর প্রথম আক্রমণ করে। তাঁদের বাইক ভাঙচুর ও পুকুরে ফেলে দেয়। তখন তাঁদের বাঁচাতে দলীয় কর্মীরা জড়ো হন। প্রতিরোধ করার সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দু’জন বিজেপি কর্মী কাটারির কোপে আক্রান্ত হয়েছেন বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে আধা সেনা নামানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশও পৌঁছেছে। বিজেপি উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে।
নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, দু’পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। 
 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ