Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাঙচুর, দোতলা বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন! বধূকে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম

ভাঙচুর, দোতলা বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন! বধূকে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম
  • ১০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দুই সন্তানের জননীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগে শুক্রবার দুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। মৃতার নাম রাসিনা খাতুন(২৬)। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ আড়াই বছরের ছেলেকে স্কুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার পর তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। বধূর বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পিটিয়ে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম-১ব্লকের মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের মাধবপুর গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ মৃতার বাপের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০-৬০জন আসে। তারপর দফায় দফায় ঝামেলা শুরু হয়। বাড়ি ভাঙচুর, জিনিসপত্র আছড়ে ভেঙে দেওয়ার পর দোতলা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’বছর আগে শেখ আকমামের সঙ্গে দাউদপুরের রাসিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছরের একটি মেয়ে এবং আড়াই বছরের একটি ছেলে আছে। আকমাম দর্জির কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। গ্রামের মোড়ল কয়েকবার এনিয়ে সালিশি সভা করে মিটমাটের চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও দু’জনের মধ্যে বেশ ঝামেলা হয় বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পর বাড়িতে ঝামেলা তুঙ্গে ওঠে। সেই সময় ওই বধূকে পিটিয়ে খুন করে দেহ দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ। ওই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশীরা জড়ো হন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য শাহনওয়াজ খান ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার কথা জানার পরই বাপেরবাড়ির লোকজন পৌঁছে যান। সেই সময় রাসিনার দেহ শোয়ানো অবস্থায় ছিল। স্বামী শেখ আকমাম বাড়িতে ছিলেন না। শ্বশুর ছিলেন। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার পুলিসও ঘটনাস্থলে যায়। পুলিসের সামনেই রাসিনার বাপের বাড়ির লোকজন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। পুলিস তাদের সংযত থাকার বার্তা দিয়ে দেহ নিয়ে চলে যায়। 
১১টা নাগাদ পুলিস দেহ নিয়ে চলে যেতেই মৃতার শ্বশুর সহ পরিবারের সদস্যরাও গা ঢাকা দিয়েছেন । তারপর পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ,বাড়ির ভিতর থেকে ফ্রিজ, আলমারি সহ আসবাবপত্র বাইরে এনে ভাঙচুর করে বাপেরবাড়ির লোকজন। বধূর বাপের বাড়ি থেকে আসা প্রায় ৫০-৬০জন লোক উত্তেজিত অবস্থায় ওই বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দাউ দাউ করে আস্ত দোতলা বাড়ি জ্বলতে থাকে। ওই খবর নন্দীগ্রাম থানার পৌঁছনোর পর ফের পুলিস আসে। স্থানীয় পুকুর থেকে জল তুলে পুলিস আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু, লেলিহান শিখার সামনে ওই প্রচেষ্টা যথেষ্ট ছিল না। শেষমেশ পাম্প বসিয়ে জল তুলে নেভানোর চেষ্টা চালায় পুলিস। ততক্ষণে আস্ত বাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য  বলেন, কীভাবে বধূর মৃত্যু হয়েছে সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। ময়না তদন্ত হলে সবটা প্রকাশ্যে আসবে। পুলিসের উপস্থিতিতে বাড়িতে ভাঙচুর হয়। পুলিস চলে যাওয়ার পর ওই বধূর বাপেরবাড়ির লোকেরাই আগুন লাগান। নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 
 নন্দীগ্রামে জ্বলছে বাড়ি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ