সংবাদদাতা, মানকর: যাঁদের পাকা বাড়ি নেই তাঁদের বাসস্থানের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে আউশগ্রাম-২ ব্লকের দেবশালা পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, আবাস যোজনার তালিকায় বৈধ উপভোক্তা ও বাড়ি পেয়েছেন বলে তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে তাঁরা বাড়ি পাননি। পঞ্চায়েত প্রধান বীথিকা মেটে বলেন, ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তা কেউ বঞ্চিত হবেন না বলে আশ্বাস মিলেছে। ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিককে ফোন করা হলেও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে পালাবদলের পর প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে আবাস যোজনার সুবিধা পান সেজন্য দেবশালায় বিজেপি কর্মীদের একাংশ এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু দেখা যায়, এলাকার অনেকেরই নাম আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন বলে পোর্টালে উল্লেখ রয়েছে। অথচ তাঁরা মাটির বাড়িতেই বসবাস করেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে আবাস যোজনা নিয়ে এই এলাকায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আনন্দ রুইদাস জানান, তাঁর মাটির বাড়ি। আবাস যোজনার সমীক্ষার সময় সেই বাড়ির ছবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু সমীক্ষার পরও তিনি আবাস যোজনার সুবিধা পাননি। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে সমীক্ষার সময়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাঁর নামে ইতিমধ্যেই বাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। কীভাবে এটা হল তা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমি যদি বাড়ি পেয়েই থাকি, তা হলে সেই বাড়ি কোথায় গেল? আমি আজও মাটির বাড়িতে থাকি। আমার নামে বরাদ্দ টাকা কে পেল? সেই টাকা দিয়ে কোথায় বাড়ি তৈরি হল? তাঁর অভিযোগ, জবকার্ড তৃণমূল নেতাদের কাছে থাকত। ওরাই জমা রাখত। আমাদের নামে যে বাড়ি এসেছিল সেই টাকা অন্য কেউ তুলে নিয়েছে। একই অভিযোগ করছেন অন্য বেশ কয়েকজন উপভোক্তা। তাঁদের দাবি, সরকারি নথিতে তাঁদের নামে বাড়ি সম্পূর্ণ দেখানো হলেও বাস্তবে সেই বাড়ির কোনও অস্তিত্বই নেই।
বিজেপি নেতা সৌমেন পাত্র বলেন, এটা শুধু কাটমানি নয়, পুরো ঘর গিলে খেয়ে নেওয়া হয়েছে। দেবশালা অঞ্চলে ১৮টি বুথ আছে। এক একটি বুথে এমন পাঁচ-ছ’জন থাকলে এই ঘটনা একশো ছাড়িয়ে যাবে। তৃণমূল আমলে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত উপভোক্তারা বাড়ির জন্য পঞ্চায়েত, ব্লক অফিসে বারবার গিয়েছেন। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। আমরা দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি।