


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: নির্বাচন কমিশনের কোপ থেকে বাঁচতে পারেননি বায়ু সেনার অফিসারদের স্ত্রীরাও। সোমবার সকালে ডিএম অফিস চত্বরে ফের ভোটার তালিকায় নাম তোলার ভিড়ে দেখা মিলল তেমনই দুই অফিসারের। এদিন সকাল থেকেই জেলাশাসকের অফিসের সামনে উদ্বিগ্ন মুখের ভিড়। কেউ রাস্তায় বসে নথিপত্র ঠিক করছেন, আবার কেউ গাছের তলায় বসে ফর্ম পূরণ করছেন। অধিকাংশের মুখেই দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। অভিযোগ, বৈধ ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আবার কারও নাম ‘বিবেচনাধীন’। ডিএম অফিস চত্বরে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মানুষ এলেও, প্রত্যেকের একটাই প্রশ্ন—আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারব তো। এই অনিশ্চয়তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মানুষের।
এদিন মেদিনীপুর ডিএম অফিসে এসেছিলেন কলাইকুন্ডার বাসিন্দা বায়ুসেনার আধিকারিক পাপ্পু নায়েক ও ই মালেশ্বর রাও। তাঁরা বলেন, সমস্ত নথি জমার পরেও স্ত্রীদের নাম বাদ পড়েছে। তাই কাজ ফেলে ছুটে আসতে হয়েছে। ফর্ম দিয়েছে, সেটা পূরণ করে জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, সোমবার মেদিনীপুর শহর ও সংলগ্ন এলাকায় শ’য়ে শ’য়ে ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুলে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে মেদিনীপুর টাউন মুসলিম কমিটি। সংগঠনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। মেদিনীপুর টাউন মুসলিম কমিটির সম্পাদক সরফরাজ খান বলেন, বেছে বেছে নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদি বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে, তবে লাগাতার আন্দোলনে নামব। জনরোষ কাকে বলে, সেদিন বুঝবে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এসআইআরের আগে ভোটার ছিল ৪০ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯৭ জন। খসড়া তালিকায় নাম বাদ যায় ২ লক্ষ ৩ হাজার ২৫২ জনের। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ফের ১৮ হাজার ৮৬ জনের নাম বাদ পড়ে। অভিযোগ, এই ১৮ হাজারের মধ্যে বহু ভোটার বৈধ। এছাড়া জেলায় বিবেচনাধীন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৪৯৬ জন ভোটারের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতারা আতঙ্কে ভুগছে। ওদের হার নিশ্চিত। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘নির্যাতন’ কমিশন সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলতে জানে। একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে লাগাতার আন্দোলন নামবে মানুষ।