সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: একই পরিবারের ৯ সদস্যের নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে। মুর্শিদাবাদের সূতি বিধানসভার সাদিকপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: একই পরিবারের ৯ সদস্যের নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে। মুর্শিদাবাদের সূতি বিধানসভার সাদিকপুরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূতির সাদিকপুরের বাসিন্দা দাস পরিবার এলাকায় বেশ পরিচিত। পরিবারের কর্তারা জানাচ্ছেন, তাঁরা বংশপরম্পরায় এই গ্রামের আদি বাসিন্দা। আধার কার্ড থেকে শুরু করে রেশন কার্ড— সমস্ত নথিপত্র রয়েছে। আগের সমস্ত নির্বাচনে তাঁরা বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবারের ভোটার তালিকায় সেই পরিবারের ছোটো বড়ো মিলিয়ে মোট ৯ জন সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কী কারণে নাম বাদ গেল, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের প্রবীণ সদস্য চাঁদকুমার দাস বলেন, আমরা এই দেশেরই নাগরিক। সব পরিচয়পত্র আছে। সরকারি ঘর, সমস্ত প্রকল্পের সুবিধাও পেয়েছি। তা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল। এখন তো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েই আশঙ্কা হচ্ছে। দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়ির মহিলাদের কপালেও। গৃহবধূ জয়ন্তী দাস বলেন, আমার স্বামী, তিন দেওর, ননদ ও পরিবারের তিন মেয়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সকলেই খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
বিষয়টি জানতে পেরে দাস পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসক দলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি সুপ্রিয় দাস বলেন, পরিবারটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সবরকমের সুযোগ সুবিধা পেয়েছে, সেটা দেখেই বিজেপির নির্দেশে পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করছেন, আমরাও পথে নামব।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করে ফের নাম তোলার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের লোকজন সরকারি দপ্তরের ছোটাছুটি শুরু করেছেন। তালিকায় নাম ফেরাতে এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চাইছেন তাঁরা।