নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন সরকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা ছাড়া শুরু করতেই রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে। যাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এককালীন তিন হাজার টাকা ঢুকেছে, তাঁরা দৃশ্যতই উচ্ছ্বসিত। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ পেতেন, কিন্তু ‘অন্নপূর্ণা’য় আবেদন করেও টাকা ঢোকেনি, এমন মহিলারা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই অবস্থায় ‘অস্থায়ীভাবে’ খারিজ হওয়া প্রায় ২৮ লক্ষ (২৭ লক্ষ ৮৩ হাজার) আবেদন নতুন করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। ইতিমধ্যে এই মর্মে নির্দেশ গিয়েছে সব জেলাশাসকের কাছে। প্রত্যেক আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে আবেদনগুলি পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫ জুলাই থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। শেষ করতে হবে সাত দিনের মধ্যে। এই ২৭ লক্ষ ৮৩ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে যাঁরা এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের আধার সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে গত শুক্রবার পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই বৈঠকে যুক্ত হন জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা। সূত্রের খবর, সেখানেই এই আবেদনগুলি ফের যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা পেতে রাজ্যে মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ আবেদন যোগ্য হিসাবে গৃহীত হয়। তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে টাকা পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য আয়কর প্রদান করেন, জিএসটি আইএন (আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) রয়েছে বা বাড়িতে তিনটির বেশি পাকা ঘর আছে—এরকম নানা কারণে ‘অস্থায়ীভাবে’ খারিজ হয়েছে ২৭ লক্ষ ৮৩ হাজার আবেদন। এবার এই বাতিল হওয়া আবেদনগুলি পুনরায় যাচাই করা হবে। কারণ, রাজ্য সরকার চাইছে একজনও যোগ্য উপভোক্তা যেন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘অস্থায়ীভাবে’ বাতিল এসব আবেদনকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা যাবে না। প্রতিটি আবেদন পুনরায় যাচাই করতে হবে সরেজমিনে। তারপর পৃথকভাবে সুপারিশ পোর্টালে তা আপলোড করতে হবে। নবান্নের তরফে এই নির্দেশ যাওয়ার পর পোর্টালে যাঁদের অ্যাপ্লিকেশন স্টেটাস ‘রিজেক্টেড’ দেখাচ্ছিল, সেই জায়গায় দেখা গিয়েছে যে তাঁদের আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
একই সঙ্গে অফলাইনে আসা আবেদনও দ্রুত ‘ডিজিটাইজ’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলি যদি এখনও ‘ডিজিটাইজ’ না করা হয়ে থাকে, আগে সেটাই করতে হবে। প্রতিটি অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও পৃথকভাবে যাচাই করে অনুমোদন বা বাতিলের সুপারিশ কারণ সহ আপলোড করতে হবে নির্দিষ্ট পোর্টালে। নবান্ন সূত্রে খবর, বহু অফলাইন আবেদনকারী এখনও যোজনার সুবিধা পাননি। এই কাজ ১০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু আবেদনকারীর ব্যাংক বা আধার সংক্রান্ত সমস্যার কারণেও টাকা পাঠানো যায়নি। এসব ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। সেই সঙ্গে মহিলা-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরকে প্রকল্পের নোডাল ব্যাংকের সঙ্গে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই দপ্তরই রয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ রূপায়ণের দায়িত্বে।