নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বড় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্দেশ্য, গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার ছোট পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু, সরকারি অনুদানের তালিকাতে রয়েছে এমন একটি পুজো কমিটি, যারা পুজোই করে না। ওই পুজো কমিটির ঠিকানা কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার নাকাশিপাড়া থানার দাদুপুরে। ওই ব্লকেরই একাধিক ছোট পুজো কমিটি অনুদান পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও তাদের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। এরকম ৮৫টি ছোট পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে তদবির করেছে বিজেপি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুজো না করেও সরকারি অনুদানের তালিকায় নাম ওঠা ওই কমিটির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানায় বিজেপি। নাকাশিপাড়া থানার এক আধিকারিক জানান, সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির নাম অনুদানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুজো না হওয়ায় ওই কমিটির অনুদান বাতিল করা হবে।
অন্যদিকে, নাকাশিপাড়া ব্লকের ৮৫টি ছোট পুজো কমিটি যাতে সরকারি অনুদান পায়, প্রশাসনের কাছে সেই দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের দাবি, তালিকায় থাকা অধিকাংশ পুজোই প্রত্যন্ত এলাকার অল্প বাজেটের পুজো। সরডাঙা, চরকুর্মিপাড়া, মাঝেরগ্রাম ও কুলেপোতার মতো এলাকার পুজো কমিটিগুলির নামও অনুদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
নাকাশিপাড়া ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অগ্নিদেব সরকার বলেন, বিষয়টি জানার পরই আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। অনুদানের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি, সাংগঠনিকভাবে এবং বিধায়কের সহযোগিতায় ৮৫টি পুজো কমিটির নাম প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা আর্থিক অনুদান পায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাকাশিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পেরিয়ে দাদুপুর। সেখানকার একটি পুজো কমিটি সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেছিল। ঘটনাচক্রে, অনুদান প্রাপকদের তালিকাতে তাদের নাম উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয় বিতর্ক। কারণ, স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূলের আমলেও ওই কমিটি সরকারি অনুদান পায়নি। তারা কোনোদিন দুর্গাপুজোর আয়োজনও করেনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে শাসকদল ঘনিষ্ঠ কিছু পুজো কমিটি প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেলেও বঞ্চিত থেকেছে প্রত্যন্ত এলাকার বহু পুজো। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই সুযোগ পেতে শাসকদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে কিছু কমিটি।
উল্লেখ্য, এ বছর কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ২৮১১টি পুজো কমিটিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে। এর জন্য মোট বরাদ্দ প্রায় ২৮ কোটি টাকা। গত বছর তৃণমূল সরকারের আমলে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় প্রায় ১৬০০টি পুজো কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিল। নাকাশিপাড়া থানা এলাকায় অনুদানের জন্য তালিকাভুক্ত ছিল ৩১৫টি পুজো কমিটি। তবে থানায় ২০৫টি পুজো কমিটির জন্য চেক পাঠানো হয়েছিল।
কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি থেকে দুর্গা প্রতিমা চলেছেন মণ্ডপে। ছবি: কাজল বিশ্বাস



