


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বিধানসভা ভোটের আগে উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়ে ঝাঁপাচ্ছে নদীয়া জেলা পরিষদ। নির্ধারিত আর্থিক বরাদ্দের বাইরেও তারা জেলার নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। এরজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে তদ্বির করতে চলেছে তারা। ভোটের ময়দানে বাজিমাত করতে উন্নয়নকে তৃণমূলস্তরে পৌঁছে দিয়ে তৎপর শাসক শিবির।
সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ার কারণে দেশভাগের পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত নদীয়া। এর অন্যতম, বাংলাদেশ থেকে আসা ছিন্নমূল উদ্বাস্তু মানুষের বসবাস। যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া জনজাতির মানুষ। মতুয়া বা নমশূদ্র সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই এসেছিলেন ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে। যারা মূলত কৃষ্ণগঞ্জ, বগুলা, মাজদিয়া, কুপার্স, হাঁসখালি সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও নদীয়া জেলায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী মানুষ। পরিসংখ্যান বলছে, জেলার প্রায় ৫১ লক্ষ জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ মানুষ এসসি এবং ২.৭ শতাংশ মানুষ এসটি সম্প্রদায়ের। অর্থাৎ প্রায় ১৬ লক্ষর কাছাকাছি। এত বছর বাদেও বহু মতুয়া অথবা আদিবাসী অঞ্চলে পর্যাপ্ত উন্নয়ন পৌঁছায়নি। আবার গত চার বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন তহবিল বা বিএডিপি-র টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে অনুন্নয়ন বেড়েছে। স্রেফ পঞ্চদশ অর্থ কমিশন এবং পঞ্চম রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকায় তাদের কাছে চাহিদা মতো উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নজর দিলে দেখা যাবে মতুয়া ভোটের একটা বড় অংশই বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার কারণে নদীয়া দক্ষিণে বারবার মুখ থুবড়ে পড়তে হচ্ছে তৃণমূলকে। তাই একদিকে সেই সমস্ত মানুষের কাছে কাঙ্খিত উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া এবং কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জিতে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে মরিয়া তৃণমূল। কিন্তু টাকার অভাব থাকলে কীভাবে তাদের কাছে বাড়তি উন্নয়ন পৌঁছে দেবে জেলা পরিষদ? সম্প্রতি তাদের পরিকল্পনা, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ করাতে উদ্যোগ নিচ্ছে তারা। বিভিন্ন অনুন্নত অঞ্চলের জন্য উন্নয়নের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তদ্বির করতে চাইছে। যাতে কেন্দ্রের সীমান্ত এলাকায় উন্নয়ন তহবিলের টাকার ভরসায় বসে না থেকে রাজ্য সরকারের বরাদ্দ অর্থেই এলাকার উন্নয়ন করা যায়। ইতিমধ্যেই ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের কাছে গিয়ে জেলার জন্য অর্থ চাওয়ার প্রস্তাব তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা পাঠানো হবে রাজ্য সরকারের কাছে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে জেলা পরিষদের নজরে।
বিষয়টি নিয়ে নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত্য কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা শুধুমাত্র পঞ্চদশ অর্থ কমিশন বা রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকার ভরসায় থাকতে চাইছি না। জেলার জন্য রাজ্যস্তর থেকে আরও প্রকল্প এবং বরাদ্দ নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য। যাতে সামগ্রিক ভাবে জেলার সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া মানুষেরও উন্নয়ন করা যায়।